Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালোবাজারি রুখতে কেমিস্ট ছাড়া সার বিক্রি করতে পারবে না সমবায় সমিতি

কালোবাজারি রুখতে কেমিস্ট ছাড়া সার বিক্রি করতে পারবে না সমবায় সমিতি
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর : কেমিস্ট ছাড়াই এতদিন সার বিক্রি করছিল সমবায় সমিতিগুলি। এবার নিষেধাজ্ঞা জারি করল রাজ্য। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, সার বিক্রি করতে গেলে সমবায় সমিতিতে কেমিস্ট রাখা বাধ্যতামূলক। রিনিউ করতে হবে সার বিক্রির লাইসেন্সও। জানা গিয়েছে, সারের কালোবাজারি রুখতেই এই উদ্যোগ। চাষিদের ঠকিয়ে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফা না লুটতে পারেন, সেটাই লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। পাশাপাশি জমিতে কতটা সার প্রয়োগ করলে উপকৃত হবেন, সেটাও জানাতে হবে চাষিদের। আর সেটা জানাতে গেলে কেমিস্ট প্রয়োজন। তাই, কেমিস্ট ছাড়া চাষিদের সার বিক্রি সম্ভব নয়। 
Advertisement
তবে, কোনও সমবায়ে কেমিস্ট না পাওয়া গেলে তার বিকল্প উদ্যোগও নিয়েছে নবান্ন। তা হল রাজ্য সরকারের তরফে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা। সমবায় সমিতিগুলিকে সারের ব্যবহার, তার প্রয়োজনীয়তা সহ যাবতীয় বিষয়গুলি হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। ট্রেনিংয়ের পরেই সমিতিকে সার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে কেউ কেমিস্ট ছাড়াই সার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতির লাইসেন্স বাতিল করার কড়া হুঁশিয়ারিও রয়েছে প্রশাসনের। নদীয়া জেলার প্রায় ৭০টি সমবায় সমিতিকে প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘সমবায় সমিতিগুলি কীটনাশক ও সার বিক্রি করা নিয়ে কড়াকড়ি করা হয়েছে। যে সমস্ত সমিতির পূর্ববর্তী লাইসেন্স ছিল, সেগুলো পুনরায় রিনিউ করাতে হবে। সেইসঙ্গে সমিতিতে কেমিস্ট রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে সার বিক্রি করার সময়, তা ব্যবহার নিয়ে চাষিদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানানো যায়। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকে এই নিয়ে ট্রেনিংও দেওয়া হচ্ছে।’
সার এবং কীটনাশক উভয়ই আগাছা এবং কীটপতঙ্গ নির্মূলে করতে ব্যবহার করা হয়। উদ্ভিদের পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য মাটিতে সার ব্যবহার করা হয়। কীটনাশক ব্যবহার করা হয় কীটপতঙ্গ, পোকামাকড়কে মেরে ফেলের জন্য। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় তা ব্যবহার করলে মাটি ও গাছ উভয়েরই ক্ষতি হয়। এতদিন সমবায় সমিতিগুলি কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই সার ও কীটনাশক বিক্রি করত। প্রশাসনের নজরদারিও সেরকম থাকত না। যার ফলে সারের কালোবাজারির অভিযোগ আসছিল বিভিন্ন সমবায় সমিতিগুলি থেকে। চাষিরাও সমিতিতে এসে বেশি দামেই সার কিনে নিয়ে যেতেন। পাশাপাশি জমিতে কতটা সার ব্যবহার করা উচিত তা বোঝানোরও কেউ ছিল না। শুধু তাই নয়, সমিতিতে সার কেনাবেচায় গরমিলের অভিযোগও আসছিল। সমিতির ম্যানেজার, ক্যাশিয়াররাই এতদিন এই সার বিক্রির কাজ করতেন। এবার তাতেই লাগাম টানতে চাইছে রাজ্য সরকার।‌
সেই লক্ষ্যেই সমিতিতে কেমিস্টকে নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সমিতির সদস্যদের মধ্যে যদি কেউ কেমিস্ট থাকে তাঁকেই সার বিক্রির দায়িত্ব দিতে হবে। নয়তো এলাকায় কেউ কেমিস্ট থাকলে তাঁর সঙ্গে চুক্তি করতে হবে সমিতিকে। সেই প্রতিদিন সমিতিতে এসে চাষিদের সার ও কীটনাশক প্রদান করবেন। সেইসঙ্গে সার কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটাও শেখাবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেমিস্ট। এই সমস্ত কিছু করলে তবেই সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিতে সার বিক্রি করার অনুমতি পাবে। গ্রামেগঞ্জে অনেক সময় কেমিস্ট পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে। যার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে সমিতিগুলিকে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। সেখান শেখানো হচ্ছে, সার ও কীটনাশক কীভাবে বিক্রি করতে হয়। 
জেলার সমবায় সমিতির শীর্ষ আধিকারিক সজল রায় বলেন, ‘আমাদের জেলায় ৩০০টির বেশি বেশি প্যাকস রয়েছে। s‌যার মধ্যে ৫৭টি সমবায় সমিতির ফার্টিলাইজার বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। বর্তমানে ৭০টি সমবায় সমিতিকে এই সার বিক্রি করা নিয়ে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।‌ তারপর তাঁদের লাইসেন্স দেওয়া হবে।’
সম্পর্কিত সংবাদ