Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালোবাজারি রুখতে চাষিদের ফোন করে সারের দাম জানছেন কৃষি আধিকারিকরা

কালোবাজারি রুখতে চাষিদের ফোন করে সারের দাম জানছেন কৃষি আধিকারিকরা
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: আলু চাষ শুরু হয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গেই সারের কালোবাজারির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এই কালোবাজারি রুখতে সরাসরি চাষিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিল রাজ্য। কৃষিদপ্তরের প্রধান সচিবের নির্দেশে বাঁকুড়া জেলার আধিকারিকরা দৈনিক ব্লকপিছু অন্তত ১০জন চাষির কাছ থেকে সারের দাম সম্পর্কে জানতে চাইছেন। সার কেনার সময় বিক্রেতার কাছে চাষিদের মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করতে হয়। সেই তালিকা ধরেই চাষিদের মোবাইল নম্বরে আধিকারিকরা ফোন করছেন। প্রকৃত তথ্য পেতে আধিকারিকরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেই চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এদিকে, সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবিতে সোমবার বামপন্থী একটি সংগঠনের তরফে বাঁকুড়ার জেলাশাসকের কাছে মিছিল করে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের সদস্যরা এদিন দুপুরে মাচানতলা চত্বরে কিছুক্ষণ বিক্ষোভও দেখান।
Advertisement
বাঁকুড়ার উপ কৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, আলু চাষিদের মধ্যে ‘এনপিকে’ গ্রুপের ১০:২৬:২৬ সার জমিতে প্রয়োগের ঝোঁক রয়েছে। ফলে ওই সারের চাহিদা এইসময় হঠাৎ বেড়ে যায়। সেই সুযোগ অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়ে থাকে। তবে ‘এনপিকে’ গ্রুপেরই ১৪:৩৫:৩৫, ২০:২০:১৩ সহ অন্যান্য আনুপাতিক হারে মিশ্রিত সারের কার্যকারিতাও ১০:২৬:২৬-এর মতোই। জমির আয়তন অনুসারে ওইসব সার প্রয়োগের পরিমাণ সম্পর্কে আমরা প্রতিটি দোকানে প্রচার চালাচ্ছি। এর পরেও কেউ বেশি দাম নিচ্ছে কি না, তা জানতে আমরা দৈনিক ব্লকপিছু ১০জন চাষিকে ফোন করছি। দপ্তরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মিনার নির্দেশে আমরা চাষিদের ফোন করে বাস্তব চিত্র জানার চেষ্টা করছি। সেইমতো রাজ্যে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ব্লক কৃষিদপ্তরকেও অবহিত করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাঁকুড়ায় চাহিদার বেশি সার মজুত রয়েছে বলে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ফলে সারের বস্তায় মুদ্রিত মূল্যের বেশি দাম কেউ চাইলে দ্রুত ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তাকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতেই কৃষিদপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যে বড়জোড়ার প্রতাপপুর এলাকার এক সার বিক্রেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস ধরানো হয়েছে। ওই সার বিক্রেতা বস্তাপিছু ৩০০টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে চাষিরা দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। তাঁর দোকানে আপাতত সার বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। যথাযথ উত্তর না পেলে লাইসেন্স বাতিলের মতো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও কৃষিদপ্তর জানিয়েছে। 
বাঁকুড়ার উপ কৃষি অধিকর্তা আরও বলেন, আমাদের জেলায় বর্তমানে যথেষ্ট পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। রবি চাষের জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বাঁকুড়ায় নাইট্রোজেন, পটাশ, ফসফেট ও সালফার ঘটিত ন’হাজার মেট্রিক টন সার প্রয়োজন হয়। জেলায় বর্তমানে সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন সার রয়েছে। আরও সাত হাজার মেট্রিক টন সার জেলায় শীঘ্রই ঢুকবে। এই সময় জেলায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়ার প্রয়োজন পড়ে। বর্তমানে জেলায় ১৬ হাজার মেট্রিক টন সার রয়েছে। আরও চার হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করা হচ্ছে। জেলার ৫২টি পাইকারি ও ১২৪৫টি খুচরো দোকানের মাধ্যমে ওই সার বিক্রি করা হচ্ছে।      
সম্পর্কিত সংবাদ