Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্লাবে ক্লাবে সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি, লাঠিচার্জ পুলিসের, রাতভর ব্যাপক উত্তেজনা

ক্লাবে ক্লাবে সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি, লাঠিচার্জ পুলিসের, রাতভর ব্যাপক উত্তেজনা
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আশঙ্কাই সত্যি হল! কৃষ্ণনগরে সরস্বতী পুজোর বিসর্জন ঘিরেও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা গেল। বিভিন্ন পুজো কমিটি ও ক্লাবের সদস্যদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ইটবৃষ্টি ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়েছে শহরে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়ে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শহরের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিসকে বারবার লাঠিচার্জ করতে হয়।
Advertisement
লাগাতার অশান্তি হওয়ায় ভাসানের কাজে দেরি হয়। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জন চলতে থাকে। সবমিলিয়ে, ১১০টি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝামেলা হলেও পুলিসি সক্রিয়তায় কোনও ঝামেলাই মাত্রা ছাড়ায়নি।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ভাসান প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। ঘূর্ণির দিকে দু’টি পুজো কমিটির মধ্যে ঝামেলা বাধে। সেই ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। তাঁদের তরফে অভিযোগ জমা না পড়লে আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করব।
পুলিস জানিয়েছে, বুধবার রাত ২টো নাগাদ ঘূর্ণি এলাকায় দু’টি পুজো কমিটির সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।‌ দু’পক্ষের কিছু লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে মারপিট শুরু করে। দুই পুজো কমিটির চারজন জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ঘূর্ণির দাসপাড়ার এক বাসিন্দার মাথায় ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার জেরে একটি পুজো কমিটি প্রতিমা রাস্তাতেই ফেলে রেখে চলে যায়। কিন্তু এঘটনায় বিকেল পর্যন্ত কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।
এক জখম ব্যক্তির আত্মীয় অনুপম দাস বলেন, আমাদের ঠাকুরের সাঙ বাঁধা হচ্ছিল। তখন ওরা পিছন থেকে এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। কারণ আমাদের ঠাকুরের সাঙ বাঁধার জন্য ওদের যাওয়ার রাস্তায় বাধা পড়ছিল।
বুধবার রাতে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি, আমিনবাজার, ফোয়ারার মোড় সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিসকে বারবার লাঠিচার্জ করতে হয়। চকেরপাড়ার কাছে একটি পুজো কমিটির শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করে লাগাতার ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ, যা নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দেয়।
কৃষ্ণনগর শহরে ভাসানের রাতে অশান্তি, ঝামেলা নতুন নয়। প্রতিবছর কালী, জগদ্ধাত্রী, সরস্বতী পুজোর ভাসানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পুজো কমিটি একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দু’বছর আগে সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের সময় গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। সেকারণে এবার পুলিসের তরফে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। হাই স্ট্রিটের ৪২টি গলিতে সবমিলিয়ে প্রায় ১০০পুলিসকর্মী মোতায়েন করা হয়। শান্তিপূর্ণভাবে ভাসান সম্পন্ন করতে শহরজুড়ে ৫০০’র বেশি পুলিস মোতায়েন ছিল। তা সত্ত্বেও অশান্তি এড়ানো যায়নি।
শহরবাসীদের বক্তব্য, প্রতিবছর কৃষ্ণনগরে পুজোর ভাসানে ঝামেলা হয়। আগে ঝামেলা রুখতে পুলিস সেভাবে সক্রিয় থাকত না। তবে এখন ভাসানের রাতে ঝামেলা হলেই পুলিস লাঠিচার্জ করছে। অবশ্য ভাসান শান্তিপূর্ণ করতে পুলিসকে আরও কড়া হতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ