নিজস্ব প্রতিনিধি, হরিপুর (পাণ্ডবেশ্বর): ভূগর্ভের কয়লা তুলে সাফ। সেখানে এখন বিশাল বিশাল জলাশয়। তার উপর স্থলভাগ। সেখানে জনপদ। আর জনপদ বলতে আস্ত একটা গ্রাম পঞ্চায়েত। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। আজ এখনে ধস নামলে, কাল অন্য কোথাও। বিপজ্জনকভাবে রয়েছে স্কুলবাড়ি। অন্যদিকে, ভূগর্ভের জলের টানে পুকুর কিংবা কুয়োর জল শুকিয়ে কাঠ। তা সত্ত্বেও টনক নড়েনি ইসিএলের। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিবিনি খেলছে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা। প্রশাসনের চিঠিতেও হেলদোল নেই তাদের। এবার ইসিএলকে সরাসরি চিঠি লিখে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। সেই সঙ্গে তীব্র আন্দোলনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের হরিপুর গ্রাম বাঁচাও কমিটি। পাণ্ডবেশ্বরের বিডিও বৃষ্টি হাজরা বলেন, ‘প্রশাসনিক বৈঠকে ইসিএল জানিয়েছিল এলাকার সায়েন্টিফিক রিস্ক মেজারমেন্ট করা হবে। সেই কাজ হয়নি। একটি স্কুলে ধস নেমেছিল। বিকল্প স্থানে স্কুল গড়া নিয়েও টালবাহানা করা হচ্ছে। প্রশাসনিকস্তরে পাঠানো চিঠিরও জবাব দেওয়া হচ্ছে না।’
Advertisement
হরিপুর মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে গতবছরই আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। দু’শোর বেশি পড়ুয়া থাকা এই সরকারি স্কুল চত্বরে বড় ধস নামে। সরকারি জমির উপর থাকা স্কুলে ধস নামা নিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেনি ইসিএলের কর্তৃপক্ষ। এলাকারবাসী ও প্রশানিক চাপে তাঁরা জানায় অন্যত্র স্কুলে গড়ে দেওয়া হবে। পাঁচ কিলোমিটার দূরে জামুড়িয়ায় জমি দেখায় ইসিএল। ছোট পড়ুয়াদের সেখানে যাওয়া অসম্ভব বলে জানিয়ে দেন গ্রামবাসীরা। এরপর প্রশাসন হরিপুরের দুর্গা মন্দিরের অদূরে একটি জমি চিহ্নিত করে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে ইসিএলকে সেখানে স্কুলটি গড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রায় বছর খানেক হয়ে গেলেও তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এত সংখ্যক পড়ুয়া নিয়ে আতঙ্কে স্কুল করি। কখন যে পড়ুয়াদের নিয়ে মাটি চাপা পড়ে যাব, আমরা জানি না।’
শুধু স্কুলে ধস নয়, এলাকা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হচ্ছে পট হোল। অর্থাৎ কুয়োর মতো গর্ত হয়ে এলাকা বসে যাচ্ছে। মাথায় হাত এলাকাবাসীর। তাঁদের দাবি, এখানে ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার হরিপুর ভূগর্ভস্থ কয়লা খাদান চালু ছিল। খনি তৈরির আগে জমিতে বছরে তিনবার চাষ হতো। কোলিয়ারি হওয়ার পর মাটিতে আর জল থাকে না। জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এরপর কোলিয়ারি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এলাকার সব দায়িত্বই নিজেদের ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলছে ইসিএল। গত বছর এক রাতে গোঁসাইপুকুর, নোনাপুকুর ও নতুন পুকুরের জলশূন্য হয়ে যায়। বাড়ির কুয়োগুলি শুকিয়ে গিয়েছে। এলাকায় প্রবল জলকষ্ট দেখা দিয়েছে। এই আতঙ্কের মধ্যে এখানে নতুন করে কেউ বাড়ি তৈরি করতে পারছেন না। পরিবারের লোকসংখ্যা বাড়ছে। অথচ, বাড়ি তৈরি না হওয়ায় সাংসারিক অশান্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হরিপুরের মতো বড় জনপদে এক ভয়ঙ্কর বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে। হরিপুর কোলিয়ারি এলাকার অন্যতম বড় বাজার। এর উপর দিয়েই গিয়েছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এলাকা ধসে গেলে ভেঙে পড়বে অর্থনীতিই। তবুও নির্বিকার কেন্দ্রীয় সংস্থা।
হরিপুর গ্রাম বাঁচাও কমিটির সম্পাদক কিশোর মণ্ডল বলেন, স্কুলে ধস নামার সময়ে ইসিএল জানিয়েছিল খড়গপুর আইআইটি থেকে বিশেষজ্ঞ এনে এলাকার পরিস্থিতি যাচাই করা হবে। ধসপ্রবণ হলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাসিন্দাদের স্থানান্তর করা হবে। সেই কাজ এক বছর পরও হল না। স্কুলটিকে পর্যন্ত স্থানান্তর করা হয়নি। আমরা ১০ দিন আগে ইসিএলকে চিঠি লিখে চূড়ান্ত হুশিয়ারি দিয়েছি। এরপরই শুরু হবে আন্দোলন। ইসিএলের কেন্দা এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার আনন্দ বলেন, ‘ফোনে এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেব না।’
শুধু স্কুলে ধস নয়, এলাকা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হচ্ছে পট হোল। অর্থাৎ কুয়োর মতো গর্ত হয়ে এলাকা বসে যাচ্ছে। মাথায় হাত এলাকাবাসীর। তাঁদের দাবি, এখানে ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার হরিপুর ভূগর্ভস্থ কয়লা খাদান চালু ছিল। খনি তৈরির আগে জমিতে বছরে তিনবার চাষ হতো। কোলিয়ারি হওয়ার পর মাটিতে আর জল থাকে না। জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এরপর কোলিয়ারি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এলাকার সব দায়িত্বই নিজেদের ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলছে ইসিএল। গত বছর এক রাতে গোঁসাইপুকুর, নোনাপুকুর ও নতুন পুকুরের জলশূন্য হয়ে যায়। বাড়ির কুয়োগুলি শুকিয়ে গিয়েছে। এলাকায় প্রবল জলকষ্ট দেখা দিয়েছে। এই আতঙ্কের মধ্যে এখানে নতুন করে কেউ বাড়ি তৈরি করতে পারছেন না। পরিবারের লোকসংখ্যা বাড়ছে। অথচ, বাড়ি তৈরি না হওয়ায় সাংসারিক অশান্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হরিপুরের মতো বড় জনপদে এক ভয়ঙ্কর বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে। হরিপুর কোলিয়ারি এলাকার অন্যতম বড় বাজার। এর উপর দিয়েই গিয়েছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এলাকা ধসে গেলে ভেঙে পড়বে অর্থনীতিই। তবুও নির্বিকার কেন্দ্রীয় সংস্থা।
হরিপুর গ্রাম বাঁচাও কমিটির সম্পাদক কিশোর মণ্ডল বলেন, স্কুলে ধস নামার সময়ে ইসিএল জানিয়েছিল খড়গপুর আইআইটি থেকে বিশেষজ্ঞ এনে এলাকার পরিস্থিতি যাচাই করা হবে। ধসপ্রবণ হলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাসিন্দাদের স্থানান্তর করা হবে। সেই কাজ এক বছর পরও হল না। স্কুলটিকে পর্যন্ত স্থানান্তর করা হয়নি। আমরা ১০ দিন আগে ইসিএলকে চিঠি লিখে চূড়ান্ত হুশিয়ারি দিয়েছি। এরপরই শুরু হবে আন্দোলন। ইসিএলের কেন্দা এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার আনন্দ বলেন, ‘ফোনে এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেব না।’



