নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: কাল, বুধবার থেকে আরামবাগ মহকুমায় শুরু হচ্ছে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের যোগ্য প্রাপক তালিকা প্রস্তুত করতে গ্রাম সভা। বুধ ও বৃহস্পতিবার দু’দিন মহকুমার প্রত্যেক ব্লকে গ্রাম সভা হবে। তবে তার আগে তালিকায় নিজের নাম দেখতে বাসিন্দারা ভিড় জমাচ্ছেন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। বিডিও অফিসেও অনেকে এসে তালিকায় নিজের নাম খুঁজছেন। তালিকায় নিজের নাম না দেখে অনেকে আবার হতাশও হচ্ছেন। ফের তাঁরা বিডিও অফিসে বাড়ি পাওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। গ্রাম সভায় যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা না হয়, তারজন্য পুলিস মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। হুগলি জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আগামী ৪ ও ৫ ডিসেম্বর গ্রাম সভা হবে। প্রত্যেক ব্লকে দু’দিন ধরে ধাপে ধাপে তা হবে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ অক্টোবর থেকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সমীক্ষার কাজ শুরু করে প্রশাসন। প্রাথমিকস্তরে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা অগ্রাধিকার প্রাপক তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি সার্ভে করেন। তারপর সুপার চেকিংয়ে নামেন জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের কর্তারা। তারপরেও চূড়ান্ত হয়নি তালিকা। প্রাপকদের তালিকা প্রস্তুত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য খতিয়ে দেখেন পুলিসের আধিকারিকরাও। তার ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসন। যদিও সমীক্ষায় অনেকের নামই বাতিল হয়েছে। পঞ্চায়েত ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে গত সপ্তাহেই। তার জেরে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের নাম দেখতে পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে যাচ্ছেন। তারসঙ্গে অনেকেই প্রশাসনের কাছে ছবি দিয়ে অভিযোগও জানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্লকেই সেইসব আবেদন জমা পড়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাংলার বাড়ি সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মায়াপুরের পঞ্চায়েত প্রধান অলোক সাঁতরা বলেন, প্রশাসনের নির্দেশমতো নির্ধারিত দিনে গ্রাম সভা হবে। পঞ্চায়েত সংলগ্ন মাঠে সেই সভা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে সভায় যোগ দেন, তা পঞ্চায়েত সদস্যদের দেখতে বলা হয়েছে। কামারপুকুর পঞ্চায়েতের প্রধান রাজদীপ দে বলেন, আগামী ৫ ডিসেম্বর গ্রাম সভার আয়োজন করা হবে। ওইদিন বিভিন্ন সংসদ থেকে বাসিন্দারা আসবেন। তাঁরা আবাসের তালিকা অনুযায়ী মতামত দেবেন। সেইমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য পাকা ঘর রয়েছে, এমন কোনও ব্যক্তি যেন আবাস না পান। তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, সংশ্লিষ্ট গ্রাম সভার দিনে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রত্যেক পঞ্চায়েত পঞ্চায়েতেই পর্যাপ্ত পুলিস থাকবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলিতে প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার বাসিন্দারা উপর সমীক্ষা করা হয়। বন্যায় যাঁদের বাড়ি ভেঙেছিল এবং যাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাঁদের বাড়িতেও সমীক্ষা চালানো হয়। সার্ভের পর বিডিও অফিসে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা টাঙানো হয়েছে। সোমবার আরামবাগ বিডিও অফিসে অনেকেই আবাসের তালিকা দেখতে আসেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় অনেকেই টর্চ জ্বেলে নিজেদের নাম তালিকায় খুঁজতে থাকেন।



