Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কংক্রিটের আলপথ চাই, দাবিতে তাজ্জব প্রশাসনিক কর্তারা

কংক্রিটের আলপথ চাই, দাবিতে তাজ্জব প্রশাসনিক কর্তারা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের প্রত্যন্ত এলাকা ভাল্কি। জঙ্গলের পথ ধরে এই গ্রামে পৌঁছতে হয়। সেই রাস্তাও পাকা হয়ে গিয়েছে। বর্ধমান শহর থেকে বহু দূরে নবস্থা গ্রাম। সেখানকার রাস্তাও পাকা হয়ে গিয়েছে। এভাবে জেলার প্রতিটি কোণের রাস্তায় পিচ পড়েছে বা ঢালাই হয়েছে। দ্রুতগতিতে গাড়ি ছোটানো যাচ্ছে। এখন অনেকেই চাইছেন আলপথের রাস্তাও পাকা হোক। ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে ফোন করে এমনই আবদার জানাচ্ছেন তাঁরা। তা দেখে আধিকারিকরা তাজ্জব হয়ে যাচ্ছেন। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সরসারি মুখ্যমন্ত্রী’তে ফোন করে যেসব রাস্তা সংস্কারের আবেদন করা হয়েছে তা জেলায় পাঠানো হয়। আধিকারিকরা তা যচাই করে অর্থ অনুমোদন করেন। সম্প্রতি বৃষ্টিতে জেলার বহু রাস্তা বেহাল হয়ে গিয়েছে। কয়েক মাস আগে তৈরি করা রাস্তাও বেহাল হয়ে গিয়েছে। জেলা প্রশাসন আপাতত আলপথ পাকা না করে সেসব রাস্তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৫২টি বড় রাস্তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) শুভলক্ষ্মী বসু বলেন, কয়েকদিন আগে বৈঠক করে ৫২টি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত নতুন করে কোনও রাস্তা সংস্কার হবে না। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা জেলায় এসেছে। সেই টাকাতেও রাস্তা সংস্কার করা হবে। এক আধিকারিক বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজে এবার প্রশাসন নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েক মাস আগে রাস্তার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই কারণেই এবার প্রথম থেকেই নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাজের মান খারাপ হলে ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জামালপুর, রায়না, গলসি ও মঙ্গলকোটের কয়েকটি রাস্তায় বালির গাড়ির যাতায়ত করে। অনেক সময় অতিরিক্ত বালি বা অন্য পণ্য নিয়ে ট্রাক বা ডাম্পার সেই রাস্তা ধরে যায়। সেসব রাস্তা সংস্কারের কয়েকদিনের মধ্যেই বেহাল হয়ে যায়। ওই রাস্তাগুলিতে জেলা পরিষদ টোলট্যাক্স বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই টাকা রাস্তা সংস্কারের কাজে খরচ করা হবে।
এক আধিকারিক বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিগুলিও রাস্তা সংস্কার করতে পারবে। কয়েকদিন পরই পঞ্চায়েতগুলিও রাস্তা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করবে। আপাতত জেলা পরিষদ রাস্তা সংস্কারের কাজে নামছে। কতগুলি রাস্তা তা সমীক্ষা করে দেখা হয়েছে। ধাপে ধাপে সব রাস্তা সংস্কার করা হবে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশন ছাড়া স্টেট ফান্ডের টাকাতেও এই কাজ করা হবে। তবে আপাতত আলপথ নিয়ে প্রশাসন ভাবছে না।
সম্পর্কিত সংবাদ