নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কাঁকরতলায় তৃণমূল কর্মী শেখ নিয়ামুলকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। এখনও পর্যন্ত পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মৃতের পরিবারের তরফে দায়ের করা অভিযুক্তরা প্রায় সকলেই পলাতক। ফলে এখনও তাদের হদিশ মেলেনি। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের আশঙ্কা, অভিযুক্তরা প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে গাঢাকা দিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ওই খুনের ঘটনায় সরাসরি ঝাড়খণ্ড যোগও থাকতে পারে। তাদের আশঙ্কা, বিজেপি ঝাড়খণ্ড থেকে ভাড়াটে দুষ্কৃতী নিয়ে এসেছিল। ঘটনায় জেলাজুড়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিস। তদন্তকারী অফিসাররা প্রযুক্তির পাশাপাশি সূত্রে ভর করে তদন্ত গোটাতে চাইছে। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, ঘটনায় তদন্ত চলছে।
Advertisement
শাসকদলের কর্মী খুনের ঘটনার পর তিনদিন পেরিয়ে গিয়েছে। এরইমাঝে মৃতের পরিবারের তরফে ২৭জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তির যোগ থাকার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র একজন পুলিসের জালে ধরা পড়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত সহ বাকিরা এখনও পলাতক। ফলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে যথেষ্ট বেগ পাচ্ছে পুলিস। ইতিমধ্যে পুলিসের তরফে অভিযুক্তদের বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। শনিবার বিকেল নাগাদ ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একটি মাঠ থেকে বেশ কয়েকটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। বম্ব স্কোয়াডের তরফে সেদিনই নিষ্ক্রিয় করা হয়। এখনও পর্যন্ত খুনের ঘটনায় মূল মাথারা অধরা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ঘটনাস্থল ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এলাকা হওয়ার সুযোগ বুঝে তারা সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী রাজ্য আত্মগোপন করেছে। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের আশঙ্কা অভিযুক্তরা ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে গা বাঁচাতে চাইছে। পুলিস তদন্ত করছে। চিরুনি তল্লাশি চলছে। ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দিয়ে কেউ বাঁচতে পারবে না। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, অসম থেকে পুলিস এসে জঙ্গি খুঁজে পাচ্ছে। ঝাড়খণ্ড তো মুখ্যমন্ত্রীর বন্ধু রাজ্য, সেখান থেকে পুলিস ধরে আনতে পারছে না কেন? পালিয়ে থাকলে পুলিস ধরুক।



