Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুকুরটাকে নিয়ে বেরতেই হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল ডাকাতরা

কুকুরটাকে নিয়ে বেরতেই হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল ডাকাতরা
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
গৃহকর্তার ছেলে রাকেশ দাস: বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করি। তাই গল্প, উপন্যাস পড়তে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে হাড় কাঁপানো ডাকাতের গল্প। রঘু ডাকাতের গল্প খুব পড়েছি। কিন্তু, নিজের বাড়িতেই ডাকাতদের মুখোমুখি হব কখনও ভাবিনি।
Advertisement
শুক্রবার খাওয়া দাওয়া সেরে সবে কুকুরটাকে নিয়ে বাইরে পা রেখেছি। তখনই হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল ডাকাতরা। ওদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। আমার তখন দিশেহারা অবস্থা। একজন গুরুগম্ভীর গলায় বলল, আলমারির চাবি দে। তোদের বাড়িতে অনেক টাকা আছে। সব বের কর। না হলে ফুটিয়ে দেব। বুঝতে অসুবিধা হয়নি বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। দু’জন আমার কাছে ছিল। বাকি চারজন দু’টি ঘরে ঢোকে। ওরা বাড়ির জিনিসপত্র তছনছ করছিল। এরই মধ্যে একজন আমাকে বলে, বিড়ি থাকলে দে তো। অনেকক্ষণ খাইনি। আমি ওদের বিড়ি নেই বলতেই খেপে গেল। আমাকে মারতে শুরু করল। তখনই একটা গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। আর পিঠের দিকে খুব জ্বলতে শুরু করল। বুঝতে পারলাম গুলিটা আমার শরীর ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। 
এরইমধ্যে আমার দিদিমা বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে ডাকাতদের দেখে চিৎকার শুরু করেন। তখন ওদের একজন বলল, তোর দিদিমাকে বোঝা। না হলে সব শেষ করে দেব। দিদিমাকে বোঝানোর সময়ই দেখি দুষ্কৃতীরা আলমারি ভাঙতে উদ্যত হয়েছে। তখন আমি বাধ্য হয়ে ওদের আলমারি ভাঙতে নিষেধ করি। চাবি বের করে দিই। ওরা লুটপাট চালায়। দুষ্কৃতীদের সবার মুখে কালো মাস্ক আর মাথা মাফলার দিয়ে বাঁধা ছিল। ফলে কাউকে চেনা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আমার ফোনের সিমকার্ড সহ মোবাইলটা ভেঙে দেয়। বোনের মোবাইলটাও নিয়ে যাচ্ছিল। আমি অনুরোধ করাতে সেটা ফেরত দিয়ে গেল। আমার কুকুরটাকে ওরা দু’জন ধরে নিয়ে গিয়েছিল। এখনও আমার রাতের কথা মনে পড়লে বুক কেঁপে উঠছে।

(বিএ, অনার্স তৃতীয় সেমেস্টার, আশুতোষ কলেজ, কলকাতা)
সম্পর্কিত সংবাদ