Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোকপাড়ার জঙ্গলে দেখা বাঘিনীর ভয়ে কাঁপছে বেলপাহাড়ী, জামবনী

কোকপাড়ার জঙ্গলে দেখা বাঘিনীর ভয়ে কাঁপছে বেলপাহাড়ী, জামবনী
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়খণ্ডের সীমানা লাগোয়া ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ী ও জামবনির গ্ৰামগুলি বাঘিনীর আতঙ্কে কাঁপছে। ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া থেকে জেলার সীমানাবর্তী গ্ৰামগুলোর দূরত্ব তিন থেকে চার কিলোমিটার। স্বভাবতই ভয়ে স্থানীয় মানুষরা জঙ্গলের পথ এড়িয়ে যাচ্ছেন। সন্ধের পর আর কেউ বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন না। বনবিভাগ জানাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডের কোকপাড়ার জঙ্গলে বাঘিনীর গতিবিধি ধরা পড়েছে। তাদের তরফে সীমানায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। গ্ৰামবাসীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
Advertisement
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, জেলার সীমানা থেকে ২০ কিমি দূরে বাঘিনীটি রয়েছে। সতর্ক নজরদারি রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী রাজ্যের বন বিভাগের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রেখে চলেছি। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের তাড়োবা-আন্ধারি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পে তিন বছরের জিনতকে আনা হয়। গত ২৪ নভেম্বর তাকে জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগে নতুন এলাকার সন্ধানে ওড়িশা থেকে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে প্রবেশ করে জিনত। গলায় রেডিয়ো কলার থাকায় জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে কোকপাড়ার জঙ্গলে তার সন্ধান মেলে। বনবিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বাঘ অল্প সময়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারে। জঙ্গলের যেসব এলাকা নিরাপদ ও যেখানে পর্যাপ্ত খাবার মেলে সেখানে বিচরণক্ষেত্র তৈরি করে নেয়। জামবনি ও বেলপাহাড়ীর ঘন জঙ্গলে প্রচুর বুনো শূয়োর, খরগোশ ও বনমুরগি রয়েছে। গ্ৰামগুলোতে গোরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পাওয়া যায়। বাঘের এই এলাকায় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জামবনির পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া গ্ৰাম বেন্দ। গ্ৰামের বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের পল্টু রানা বলেন, বাঘের খবরে গত দু’-তিনদিন ধরে গ্ৰামের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে। বাঘিনীটি একটা গোরু মেরেছে বলে খবর পেয়েছি। দিনের বেলাতেও এখানে লোকজনের চলাচল কমে গিয়েছে। সন্ধে হলেই ঘরে ঢুকে পড়ছি। অপর বাসিন্দা নিভা রানা বলেন, কোকপাড়ার জঙ্গলের পরেই আমাদের গ্ৰাম লাগোয়া পটাশপুর জঙ্গল। বাঘিনীর জঙ্গল পথে এখানে চলে আসার সম্ভবনা রয়েছে। গ্ৰামবাসীদের সুরক্ষায় বনবিভাগ এখনও কোনও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। জামবনি ব্লকের ওড়ো গ্ৰামের বাসিন্দা শিশির মাহাত বলেন, এতদিন হাতির আতঙ্ক ছিল। এবার বাঘিনীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কাজে বের হতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর আগেও বাঘের দেখা মিলত। ডোমগড়ের জঙ্গলে বাঘের আস্তানা ছিল। আমলাশোল গ্ৰামের বাসিন্দা খাঁন্দু সিং মুড়া বলেন, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েতে সমিতি থেকে এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। জঙ্গলের দিকে আমাদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া গ্ৰামের বাসিন্দারা রাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। গৃহপালিত পশুদের নিরাপদ জায়গায় রাখতে বলা হয়েছে। বেলপাহাড়ীর পর্যটন সংস্থার এক কর্তা বলেন, বাঘের খবরে এখানে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যেসব পর্যটকরা এখানে আছেন, তাঁদের জঙ্গলের দিকে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। বাঘ ধরা না পড়লে শীতের মরশুমে ব্যবসায়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছি। 
সম্পর্কিত সংবাদ