নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের রিপোর্ট এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের(ইসি) বৈঠকে সামনে আনবে কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য একটি কমিটি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটির সদস্যরা আর্থিক সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিস ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও চক্রের মাস্টারমাইন্ড এখনও অধরা রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি রিপোর্ট জমা করেছে। কিন্তু সম্প্রতি ইসির বৈঠক না হওয়ায় কমিটির রিপোর্ট সামনে আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের পরই ইসির বৈঠকের প্রস্ততি শুরু হয়েছে। এপ্রসঙ্গে উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ বলেন, ইসির বৈঠকে ফাইল পেশ করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Advertisement
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগে অস্থায়ী উপাচার্য গৌতম চন্দ্র একাধিকবার ইসির বৈঠক ডেকেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তা ভেস্তে যায়। সেই কারণে কমিটির রিপোর্ট সামনে আনা যায়নি। এক আধিকারিক বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা তছরূপ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনায় মূল চক্রী এখনও কেন ধরা পড়ছে না তা বোঝা যাচ্ছে না। সই নকল করে টাকা তোলা হয়েছিল। সর্ষের মধ্যে ভূত না থাকলে এধরনের ঘটনা হতে পারে না। সেই ‘ভূত’দের চিহ্নিত করা হয়নি। ফলে আগামী দিনে ফের এধরনের অপরাধ করতে প্রতারকরা ভয় পাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কোন খাতে কত টাকা কীভাবে খরচ করা হয়েছে তা জানতে অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ কমিটিও সবদিকে নজর রাখবে। কোন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, কবে জমা হয়েছে, এসব কিছুই আর্থিক কমিটির নজরে থাকবে। উপাচার্য বলেন, আগামী দিনে আরও বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটিএম বসানোর জন্য কয়েকটি ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা হয়েছে। এছাড়া আধুনিকমানের ক্যান্টিন তৈরি করা হবে। পড়ুয়ারা বিশেষ দিনগুলি সেখানে উদ্যাপন করতে পারবে। পাশাপাশি আর্থিক তছরুপের ঘটনা আগামী দিনে যাতে আর না ঘটে, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।



