Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাজলকে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা

কাজলকে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: নিরাপত্তা বাড়ল বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের। এবার থেকে তিনি ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। তার আগে কমিটির অন্যতম সদস্য কাজল শেখের নিরাপত্তা বাড়ায় জেলা রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 
Advertisement
বর্তমানে বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখ বর্ণময় চরিত্র। দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করে নানুরের প্রত্যন্ত পাপুরি গ্রাম থেকে তাঁর উত্থান। প্রকাশ্যে অনুব্রত মণ্ডলকে নিজের রাজনৈতিক অভিভাবক বলে পরিচয় দেন। কিন্তু তিনিই এই মুহূর্তে অনুব্রতর অন্যতম বিরোধী বলে পরিচিত। তবে, সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলই ছিলেন তৃণমূলের শেষ কথা। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় গোরু পাচার কাণ্ডে তাঁর গ্রেপ্তারির পর। এই সময় থেকেই ক্রমশ উত্থান হতে থাকে নানুরের দাপুটে নেতা কাজলের। এমনকী, অনুব্রতর গ্রেপ্তারের দিন তাঁকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কাজল। গ্রেপ্তারির দিন নিজের ফেসবুক পেজে রুগ্ন সিংহের ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, চেহারা, দাপট, অবস্থান, ক্ষমতা ও শক্তি চিরস্থায়ী হয় না। দুঃখের বিষয় অনেকেই এটা ভুলে যায়। অনুব্রতর জেল যাত্রা কার্যত ‘পৌষ মাস’ হয় কাজলের। জেলায় তৃণমূলের টালমাটাল অবস্থার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেন কোর কমিটি। সেখানেও ঠাঁই পান কাজল। এরপর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত হন। এই কোর কমিটির নেতৃত্বে গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফলাফল হওয়ায় রাজ্য নেতৃত্বের  সুনজরে আসেন কমিটির সদস্যরা। তাই দু’বছর জেল যাত্রার পর অনুব্রত বোলপুর ফিরলেও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কাজলের মতানৈক্য সামনে আসে। বারবার কোর কমিটির বৈঠক না হওয়া নিয়ে সরব হন কাজল। ১৬ নভেম্বরের বৈঠকের ঠিক আগে কাজল পেলেন ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা। এবার তাঁর গাড়ির পিছনে একটি এসকর্ট কার থাকার পাশাপাশি সামনে থাকবে পাইলট কার, সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিস বাহিনী। এছাড়াও বাড়িতেও থাকবে নিরাপত্তা। রাজনীতিবিদদের মতে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে কাজলের গুরুত্ব বেড়েছে তা নিরাপত্তা বাড়ানোই তারই ইঙ্গিত। 
যদিও এর পিছনে কোনও রাজনীতি নেই বলে জানিয়েছেন কাজল শেখ। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু বুঝি না। আমি স্পষ্ট বক্তা, নানা সময়ে সিপিএম, বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের কার্যকলাপ স্পষ্টভাবেই বলি। এছাড়া বীরভূম অনেক বড় জেলা। প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ করে প্রায় প্রতিদিনই অনেক রাত করে বাড়ি ফিরতে হয়। তাই জেলা প্রশাসনের হয়তো মনে হয়েছে আমার নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন। সেজন্য তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ