সংবাদদাতা, ঘাটাল: বাড়িতে বসে কাজুর প্যাকেট করতে হবে, সেখান থেকেই হবে মোটা টাকা আয়। এই ‘প্রলোভন’ দেখিয়ে ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন গ্রামে শয়ে-শয়ে মহিলার কাছ থেকে টাকা ও নথি সংগ্রহ করছে কিছু যুবক। টাকার পরিমাণ বেশি না হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত প্রশাসনও। দাসপুর-১ বিডিও দীপঙ্কর বিশ্বাস বলেন, দাসপুরেও এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এনিয়ে এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানও বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমি বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি। জেলা গোয়েন্দা পুলিসের এক ইন্সপেক্টর বলেন, এই মুহূর্তে ঘাটাল মহকুমার তিনটি থানা এলাকা থেকেই মহিলাদের কাছ থেকে একাধিক নথি সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কয়েক জনের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এইভাবে কারোর কাছ থেকে নথি নেওয়ার পিছনেও অন্য অভিসন্ধি থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি আমরা ফোকাসে রেখেছি। আমরা চাইছি কেউ কোনও লিখিত অভিযোগ জানাক।
Advertisement
দাসপুরের মঞ্জুরা বিবি ও নাসিমা বিবি জানান, এলাকার ২৮ জন মহিলা নিয়ে স্বসহায়ক গ্রুপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। গ্রুপের মহিলাদের কাজু পৌঁছে দেওয়া হবে। তা বাড়িতে বসে প্যাকেট করতে হবে। পারিশ্রমিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরজন্য মহিলাদের কাছ থেকে আধার কার্ড, ছবি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে আবেদন করার জন্য কারোর কাছ থেকে ১০০, কারোর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। হুগলি জেলার তারকেশ্বরের চাঁদুর গ্রাম থেকে সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দায়িত্বে রয়েছেন চন্দ্রকোণা থানার নেকড়বাগের বাসিন্দা জুলফিকর আলি। তিনি বলেন, মহিলাদের আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। কারোর কাছ থেকে আমরা টাকা নিইনি।



