Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ঈশান-সূর্যর দাপটে উড়ে গেল কিউয়িরা, সিরিজে ২-০ এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া

ডাফির বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে অভিষেক শর্মার ক্যাচ কনওয়ে ধরতেই গ্যালারি জুড়ে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। স্কোরবোর্ড বলছে ৬-২। আগেই ফিরে গিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন।

ঈশান-সূর্যর দাপটে উড়ে গেল কিউয়িরা, সিরিজে ২-০ এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রায়পুর: ডাফির বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে অভিষেক শর্মার ক্যাচ কনওয়ে ধরতেই গ্যালারি জুড়ে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। স্কোরবোর্ড বলছে ৬-২। আগেই ফিরে গিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। সর্বসাকুল্যে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৬। তা নিয়ে কেউ বিচলিত নন, যতটা বাঁ হাতি ওপেনারকে ঘিরে। গোল্ডেন বয় অভিষেক গোল্ডেন ডাক— বিশ্বাসই হচ্ছিল না। গত দেড় বছর ধরে টি-২০ ফরম্যাটে তাঁর ব্যাটেই অধিকাংশ ম্যাচে লেখা হয়েছে টিম ইন্ডিয়ার জয়গান। তাই প্রথম বলেই আউট হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়েছিলেন অভিষেক। আসলে বাইশ গজ আজব মঞ্চ। আজ যে রাজা, কাল সে ফকির। শূন্যস্থান ভরাট হয়ে যায় কালের নিয়মে। সেটাই গড়ে দেয় জয়ের পথ। কে ভেবেছিলেন, প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা ঈশান কিষানের ব্যাট এভাবে ঝলসে উঠবে। ২১ বলে ঝোড়ো হাফ-সেঞ্চুরি। যাবতীয় গ্লানি ঝেড়ে অধিনায়কোচিত ইনিংসে দলকে সিরিজে ২-০ এগিয়ে দিলেন সূর্যকুমার যাদব। ১৫.২ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই জয়ের কড়ি জোগাড় করে নিল টিম ইন্ডিয়া (২০৯-৩)। সূর্যকুমার ৮২ ও শিবম দুবে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকলেন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে। ম্যাচের সেরা ঈশান।

Advertisement

ক্রিকেটে সবই সম্ভব। শুধু সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। পালে হাওয়া ধরলে নৌকা ছুটবে আপন গতিতে। তেমনই মেজাজে ধরা দিলেন ঈশান-সূর্য। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ১২২ রানের পার্টনাশিপই নিউজিল্যান্ডকে ছিটকে দিল ম্যাচ থেকে। ৩২ বলে ৭৬ রান করে ঈশান যখন থামলেন, তখন শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে টিম ইন্ডিয়া। ৬৫ বলে দরকার ৮১ রান। ব্যাটন হাতে তুলে নিলেন সূর্যকুমার। ২৩ ইনিংসের পর হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া শুধু তাঁর কাছে নয়, বিশ্বকাপের আগে দলের কাছেও বড় স্বস্তি।

টি-২০ বিশ্বকাপের আগে দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত। যশপ্রীত বুমরাহকে একটা ম্যাচ খেলিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হল বিশ্রামে। আর বুমবুমের খামতি ধরা পড়ল ভারতের পেস আক্রমণে। অর্শদীপ সিং, হর্ষিত রানারা রান বিলোলেন আপন মনে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অনায়াসেই দুশোর গণ্ডি টপকে যায় নিউজিল্যান্ড। বিনা উইকেটে ৪৩ তোলার পর আচমকাই কনওয়ে (১৯) ও সেইফার্টের (২৪) উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। তাতে অবশ্য দমানো যায়নি কিউয়িদের। রাচীন রবীন্দ্র ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২৬ বলে করেন ৪৪ রান। ব্যক্তি নৈপুণ্য নয়, দলগত পারফরম্যান্সেই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ঝলমলে দেখিয়েছে। গ্লেন ফিলিপস, ড্যারিল মিচেলরা নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও ক্যাপ্টেন মিচেল স্যান্টনার ২৭ বলে ৪৭ রান করে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা মিটিয়ে দেন। শেষ তিন ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ৪৭ রান। তার মধ্যে অর্শদীপ একাই অন্তিম ওভারে ১৮ রান দেন। তবে ঈশান-সূর্যদের দাপটে দুর্দান্ত জয়ে আপাতত ঢাকা পড়ল ভারতীয় বোলিংয়ের খামতি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড ২০৮-৬ (স্যান্টনার ৪৭, রাচীন রবীন্দ্র ৪৪, কুলদীপ ৩৫-২)। ভারত ২০৯-৩ (সূর্যকুমার অপরাজিত ৮২, ঈশান ৭৬, দুবে অপরাজিত ৩৬)।  ভারত জয়ী ৭ উইকেটে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ