শুভঙ্কর বসু কলকাতা
শুভঙ্কর বসু কলকাতা
গোটা রান্নাঘর আড়াল করে তৈরি হয়েছে পুজো মণ্ডপ! যার জেরে গ্যাস জ্বালাতেই ভয় পাচ্ছেন বৃদ্ধ দম্পতি। অভিযোগ, পুজো উদ্যোক্তা ক্লাবকে একাধিকবার বলেও কোনও সুরাহা হয়নি। উপায় না দেখে অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। বুধবার সেই মামলায় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে রান্না চাপাবেন না ওই বৃদ্ধ দম্পতি। চার বেলা তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে পুজো উদ্যোক্তাদেরই। পাশাপাশি ঘরে বাতাস চলাচল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ক্লাব কর্তৃপক্ষকেই দম্পতির জন্য এসি বা কুলারের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। কার্যত এই শর্তেই ওই ক্লাব কর্তৃপক্ষকে পুজো করার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
হাওড়ার জগাছা থানার মোহিয়ারি রোড এলাকার বাসিন্দা তৃপ্তি ঘোষের অভিযোগ ছিল, স্থানীয় সবুজ পত্র ক্লাব কোনও কর্তৃপক্ষের কাছে কোনওরকম অনুমতি না নিয়েই তাঁর বাড়ির পাশেই পুজোর অয়োজন করেছে। এমনকী ১২ ফুটের রাস্তার সবটাই দখল করে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তাটুকুও রাখা হয়নি। বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলাটি উঠলে, ক্লাব কর্তৃপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁরা সবরকম অনুমতি নিয়েই এই পুজোর অয়োজন করেছে। এমনকী ১৩ বছর ধরে তারা এই পুজোর আয়োজন করে আসছে। কারও ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা জমিতে পুজো প্যান্ডেল করা হয়নি। তারা আরও দাবি করে, মামলাকারীর যাতায়াতের রাস্তা রেখেই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলাকারীর আইনজীবী ছবি দেখিয়ে পাল্টা দাবি করেন, যেভাবে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে, তাতে একতলার ঘরের সমস্ত জানালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী রান্না ঘরের গোটাটাই আড়াল হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, যেহেতু প্যান্ডেল তৈরিতে উচ্চ পর্যায়ের দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে সেকারণে মামলাকারী বৃদ্ধ দম্পতি রান্না ঘরে গ্যাস জ্বালাতে ভয় পাচ্ছেন। এই বক্তব্য শোনার পরই ক্লাব কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি সিনহা বলেন, তাহলে তো পুজোর দিনগুলিতে ওই বৃদ্ধ দম্পতি খাওয়া দাওয়ার সবরকম ব্যবস্থা করতে হবে উদ্যোক্তাদের। পাশাপাশি বিচারপতি সিনহা বলেন, শুধু খাবার নয়, যেহেতু এক তলার ঘর হওয়ায় প্যান্ডেলের কারণে বাতাস পুরোটাই আটকে গিয়েছে, তাই এসি বা কুলারের ব্যবস্থা করতে হবে উদ্যোক্তাদের। তবে উদ্যোক্তাদের খাবার নিতে রাজি নন মামলাকারীরা।