নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ট্রেনে লুটপাট চালানো গ্যাংয়ের কিংপিন মহম্মদ মেহেবুবকে বেগুসরাই থেকে কলকাতায় নিয়ে এল রেল পুলিশ। বাংলা, বিহার ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে ডজনখানেক অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্ত মেহেবুব নিজের জেলার ছেলেদের নিয়ে গ্যাং তৈরি করে একের পর এক অপরাধ করে বেড়াচ্ছিল। হাওড়া স্টেশনে ট্রেনে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করে কোটি টাকার সোনার অলঙ্কার লুটের পর বেগুসরাইয়ের বাড়িতে খাটের নীচে মাটি খুঁড়ে সেগুলি লুকিয়ে রেখেছিল। সেখান থেকে লুটের গয়নাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
৭ অক্টোবর হাওড়ায় একটি দূরপাল্লার ট্রেনের বাতানকুল কামরায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করে এক কোটি টাকার সোনার গয়না নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করে হাওড়া জিআরপি। পরে ধরা পড়ে আরও তিনজন। ধৃতরা তদন্তকারীদের জানায়, গ্যাংয়ের মাথা বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা মেহেবুব। সেলিম ও ইকবাল তার দুই বিশ্বস্ত সাগরেদ। লুট করা সোনা নিয়ে মেহেবুব যে বেগুসরাই পালিয়েছে, তাও তদন্তকারীদের জানায় ধৃতরা। বিভিন্ন স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, হাওড়া থেকে সে প্রথমে খড়্গপুরে নেমেছে। সেখান থেকে আবার ট্রেন ধরে বেগুসরাই।
মোবাইলের সূত্রে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, লুটের গয়নার একটা অংশ রাজেশ নামে বেগুসরাইয়ের এক বাসিন্দাকে দিয়েছে মেহেবুব। রেল পুলিশের টিম বিহারে থেকে প্রথমে তাকে পাকড়াও করে। ওই এলাকার আরজেডি নেতা তথা পেশায় মুহুরি রাজেশের কাছ থেকে সোনার হার উদ্ধার হয়। তার থেকেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মঙ্গলবার তার কাছে মেহেবুব একটি মামলায় জামিন নিয়ে আলোচনার জন্য আসার কথা রয়েছে। সেই মতো মেহেবুব রাজেশের কাছে পৌঁছনো মাত্র তাকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এক সময়ে বেগুসরাইয়ে তোলাবাজি করা এই অভিযুক্ত এলাকার সাত-আটজনকে নিয়ে একটি টিম তৈরি করে ডাকাতির জন্য। মেটিয়াবুরুজে এক আত্মীয়ের বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। সেই সুবাদে বড়বাজার, পোস্তার সোনাপট্টিতে যে পশ্চিমবঙ্গ সহ নানা রাজ্য থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সোনা কিনতে আসেন, জানতে পেরেছিল মেহেবুব। ডাকাতির টিম তৈরির পর এসব এলাকায় ঘুরে বেড়াত তার ছেলেরা। সে নিজে থাকত হাওড়া স্টেশনে। কেউ সোনা নিয়ে বেরোলে তাঁকে অনুসরণ করত মেহেবুবের দলবল। ব্যবসায়ী ট্রেনে ওঠামাত্র সোনার ব্যাগ লুট করত তারা। কেউ দিতে না চাইলে মারধর করত। ধৃত মেহেবুব তদন্তকারীদের জানিয়েছে, আসানসোল, শালিমার, মধুবনী, ঝাঁঝা, বেগুসরাই সহ বিভিন্ন স্টেশনে এই কায়দায় লুটপাট চালিয়েছে তারা। বছর পাঁচেক ধরে এই কাজ করছে। ট্রেনে লুট করলে সহজেই পালানো যাবে বলে তারা এই পন্থা বেছে নিয়েছিল। ডাকাতির সামগ্রী সে বিহারের একটি সোনার দোকানে বিক্রি করত। ওই দোকানের মালিকও এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই অভিযুক্তকে হাওড়া আদালতে তোলা হয়। সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক জানিয়েছেন, ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।