সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: কিং কং হচ্ছে পশুদের রাজা। ১৯৩৩ সাল থেকে এ গ্রহে আশ্চর্যরকম সব কাণ্ডকারখানা দেখাচ্ছে। সে বিশাল বড়ো। এতটাই বড়ো যে, তার হাতের মুঠোয় ভরে ফেলতে পারে আস্ত একটা মানুষকে। এখন বারুইপুরেও এসেছে কিং কং। ‘রাজধানী’ সার্কাসে খেলা দেখাচ্ছে। এখন জানাও গিয়েছে, কিং কং আসলে বাঙালি। তাঁর নাম, বীরেশ্বর মাহাত। পুরুলিয়ার ছেলে।
ভুল বোঝার আগে বলে ফেলা ভালো, কিং কং আসলে কাল্পনিক জন্তু। একটি বিশালাকার গরিলা। ৯০ বছর আগে মেরিয়ান কুপার নামে এক চলচ্চিত্র পরিচালক কিং কং চরিত্র তৈরি করে সিনেমা বানিয়েছিলেন। সেটি চূড়ান্ত হিট হয়। তারপর কিং কং নিয়ে বহু সিনেমা হয়েছে। এখনও হয়ে চলেছে। এবার সার্কাসেও কিং কং সেজে ঢুকে পড়লেন বীরেশ্বর। বারুইপুরের রাসমাঠে চলছে রাজধানী সার্কাস। সেখানে আসর মাতাচ্ছে কিং কং। আট থেকে আশি’র ভিড় সার্কাস তাঁবুতে। খেলা শেষে কিং কং’এর সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে প্রবল উৎসাহ ছোটদের। বড়োরাও কম উৎসাহী নন। এছাড়া সার্কাসের বাড়তি আকর্ষণ এক রাশিয়ান দম্পতির জিমন্যাস্টিক। আছে মণিপুরের ছেলে-মেয়েদের আকর্ষণীয় কিছু খেলা। সার্কাসের ম্যানেজার কর্ণদেব রায় ও নূর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে কিং কং। এছাড়া কয়েকদিনের মধ্যে আরও আকর্ষণীয় খেলা আসছে সার্কাসে। আফ্রিকার খেলোয়াররা আসছেন। ভিড় আরও উপচে পড়বে।’
পুরুলিয়ার ছেলে বীরেশ্বর মাহাত। সার্কাসে কালো লোমওয়ালা পোশাক পরছেন। প্রতিদিন দুপুর একটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শো। রীতিমতো আসর মাতাচ্ছেন তিনি। জোকাররা তাঁকে খুব ভয় পান। যখনতখন তাঁদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। কখনও হিন্দি গানের তালে নাচছেন। কখনও দর্শকদের দিকে এগিয়ে অঙ্গভঙ্গি করে আমোদ দিচ্ছেন। দু’বছর ধরে সার্কাসে কাজ করছেন বীরেশ্বর। তাঁর বাবা কৃষক। কিং কং স্পষ্ট বাংলায় বলেন, ‘সার্কাসে আসার আগে গাড়ি চালাতাম। কিন্তু সংসার চলত না। তাই বাড়তি রোজগারের আশায় সার্কাসে যোগ দিয়েছিলাম। এখন আমার মোটামুটি চলে যাচ্ছে। ছুটি নিয়ে বাড়ি যাই। পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়। দর্শকরা হাততালি দিলে বা সেলফি তুলতে এলে খেলা দেখানো সার্থক হয়।’ জানালেন, ভারী লোমওয়ালা পোশাক গায়ে রাখতে কষ্ট হয়। কিন্তু খেলা দেখানোর সময় কষ্ট গায়ে লাগে না। রাজধানীতে চারজন জোকারের খেলাও মন ভরাচ্ছে দর্শকদের।একাধিক নতুন খেলা নিয়ে হাজির আছেন তাঁরা। কিং কংয়ের সঙ্গে সেলফি দর্শকের। -নিজস্ব চিত্র