নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মহিলাকে অপহরণের অভিযোগে এক ভণ্ড সাধুকে গ্রেপ্তার করল বহরমপুর থানার পুলিস। ধৃতের নাম প্রসেনজিৎ প্রামাণিক। তার বাড়ি রেজিনগরের দাদপুর এলাকায়। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি সাধু বেশে এলাকার দুস্থ মহিলাদের টার্গেট করত। তারপর নানা উপায়ে তাঁদের বশে আনার চেষ্টা করত। সেই ফাঁদে পা দিলেই মহিলাদের নিজের ডেরায় নিয়ে আসত। দিনের পর দিন ওই অসহায় মহিলাদের সঙ্গে একসসঙ্গে থাকত। মহিলাদের থেকে নানান সুযোগ নিত। রবিবার ধৃতকে গ্রেপ্তার বহরমপুর আদালতে পেশ করে পুলিস। বিচারক সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলেই দাবি তদন্তকারী আধিকারিকদের। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২দিন আগে নদীয়ার বেথুয়াডহরির এক গৃহবধূ হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়ি থেকে সে সমস্ত নথি নিয়ে কালীগঞ্জের বাপের বাড়িতে চলে আসে। তারপর সেখান থেকে রেজিনগরের দাদপুরে অভিযুক্তর সঙ্গে থাকতে শুরু করে। এদিকে ওই ঘরছাড়া বধূর স্বামী বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করে। বধূর বাপের বাড়িতে গিয়ে জামাই জানতে পারে যে, বহরমপুরের দিকে চলে গিয়েছে ওই বধূ। কোথাও না পেয়ে সে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পুলিস তদন্ত করে এই সাধুর ব্যাপারে জানতে পারে। রেজিনগরের সাধুর ডেরায় তল্লাশি করেও প্রথমে ওই বধূর কোনও খোঁজ মেলেনি। রেজিনগরের গঙ্গার পাড়ে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে ওই বধূকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। পরে ওই বধূকে কলকাতার এক সুরক্ষিত ডেরায় পাঠিয়ে দিয়েছিল অভিযুক্ত। তাকে রবিবার বহরমপুর আদালতে তুলে হেফাজতে নিয়ে ওই বধুর ব্যাপারে এই তথ্য পায় পুলিস। সোমবার অভিযান চালিয়ে কলকাতা সংলগ্ন একটি জায়গা থেকে ওই বধূকে উদ্ধার করেছে বহরমপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিসের অনুমান, তান্ত্রিক বেশে এই সাধু মানব পাচারের কাজ করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় আর কার কার যোগ রয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিস। বহরমপুর থানার আইসি উদয় শঙ্কর ঘোষ বলেন, রেজিনগরে ব্যাপক আসর জমিয়ে বসেছিল এই ভণ্ড সাধু। ১১দিন আগে নদীয়ার এক মহিলাকে সে ফুঁসলিয়ে নিয়ে এসে লুকিয়ে রেখেছিল নিজের ডেরায়। ওই মহিলার সঙ্গে আগেই পরিচয় ছিল অভিযুক্তের। মহিলা স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করি। ওই সাধুকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই একাধিক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। অবশেষে মহিলাকে উদ্ধার করা গিয়েছে। ওই বধূর মা এবং পরিবারের সদস্যদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।



