Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সল্টলেকে গেস্ট হাউস থেকে উদ্ধার নিউ বারাকপুরের অপহৃত ব্যবসায়ী

নিউ বারাকপুরের ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে রাখা হয়েছিল সল্টলেকের এক গেস্ট হাউসে

সল্টলেকে গেস্ট হাউস থেকে উদ্ধার নিউ বারাকপুরের অপহৃত ব্যবসায়ী
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নিউ বারাকপুরের ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে রাখা হয়েছিল সল্টলেকের এক গেস্ট হাউসে। তারপর তাঁর বাড়িতে ফোন করে দফায় দফায় টাকা চাওয়া হয়েছিল। কোনওমতে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে অপহরণকারীদের পাঠিয়েছিলেন অপহৃত ব্যবসায়ীর স্ত্রী। বাকি টাকা জোগাড়ের জন্য সোনার গয়না বিক্রি করতে রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। শেষমেশ পরিচিতদের পরামর্শে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানালে তদন্তে নামে পুলিস। মঙ্গলবার রাতে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখে সল্টলেকে কেষ্টপুর খাল সংলগ্ন একটি গেস্ট হাউস থেকে পুলিস উদ্ধার করে অপহৃত ব্যবসায়ীকে। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় ছ’জনকে। ধৃতরা সকলেই তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার। অভিযুক্তরা তাঁকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিস। ধৃতদের বুধবার বারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

নিউ বারাকপুর থানা এলাকার সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোড লাগোয়া একটি বড় আবাসনে থাকেন সৌমিত্র রায়। তাঁর রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা। রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে কাজে বেরিয়েছিলেন। কথা ছিল, সোমবার সকালে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী সুদীপা রায়ের কাছে হঠাৎই ফোন আসে অপহরণকারীদের। তাতে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আসে মেসেজও। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভয় দেখাতে গৃহবধূকে ফোনে রেখে সৌমিত্রবাবুর উপর অত্যাচার পর্যন্ত করা হয়েছে।
সুদীপাদেবীর কথায়, ‘অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ প্রথমে পাঁচ লক্ষ টাকা চায়। পরে তা বাড়িয়ে আট লক্ষ টাকা করে। প্রথম দফায় ওদের ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ওর উপর অত্যাচার না করতে। উল্টোদিক থেকে শাসিয়ে বলা হয়েছিল, কাউকে কিছু জানালে পরিণতি ভালো হবে না।’ এদিকে, বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হন সুদীপা রায়। শেষমেশ স্বামীকে বাঁচাতে গয়না বিক্রির পরিকল্পনা করেন। পরিচিতরা সুদীপাদেবীকে উদভ্রান্তের মতো ছুটতে দেখে জিজ্ঞাসা করলে অপহরণের কথা জানতে পারেন। তাঁরাই থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। মঙ্গলবার তিনি নিউ বারাকপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিস তদন্তে নেমে অপহরণকারীদের টাওয়ার লোকেশন চিহ্নিত করে। ওই রাতেই সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউসে হানা দিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ছয় অপহরণকারীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতরা হল বাগুইআটির সুমন সাহা, লেকটাউনের শিবা ছেত্রী, কলকাতার ৪ নম্বর গোয়াবাগান স্ট্রিটের বিশাল দাস, মানিকতলা মেন রোডের শুভজিৎ মুখোপাধ্যায়, রাজাবাগানের আব্দুল খালিক ও বারাসতের শেখ আনিসউদ্দিন।
বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দ্রবদন ঝাঁ বলেন, অপহৃত ব্যবসায়ীকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই অপহৃতের ব্যবসায়িক পার্টনার। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলার জন্যই সম্ভবত তাঁকে আটকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। তদন্তে সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ