Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাতড়া মহকুমায় বেআইনি ভাবে বালি উত্তোলন, তদন্তের নির্দেশ

খাতড়া মহকুমায় বেআইনি ভাবে বালি উত্তোলন, তদন্তের নির্দেশ
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: খাতড়া মহকুমায় বেআইনি বালি উত্তোলন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিল বাঁকুড়া জেলা ভূমিদপ্তর। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বিবেক দত্তাত্রেয় ভাসমে ওই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত তদন্ত চালিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, শিলাবতী সহ দক্ষিণ বাঁকুড়ার একাধিক নদনদী থেকে বেআইনিভাবে যথেচ্ছ বালি উত্তোলনের ফলে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। শীতকালেও নদীর পাড়ে ধস নামছে। ধসের কবলে পড়ে রাস্তাঘাট, গাছপালা, চাষের খেত নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ঘটনায় সিমলাপাল, তালডাংরা, সারেঙ্গা, রাইপুরের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়েছে। শুক্রবার ওই সংক্রান্ত খবর ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপর জেলা ভূমিদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেন। তাঁরা তড়িঘড়ি আলোচনায় বসেন। তারপর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি ও ভূমি সংস্কার) বলেন, বালি ও মাটি উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন বরদাস্ত করা হবে না। এব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। 
প্রসঙ্গত, বাঁকুড়ায় বর্তমানে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এজেলার দামোদর, দ্বারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, শিলাবতী, কংসাবতী, জয়পাণ্ডা সহ প্রায় সব নদনদীতেই বালি মাফিয়া মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা থাবা বসিয়েছে। জেলার জোরবাঁধ ও খালবিলগুলিও বাদ যাচ্ছে না। সেখানেও মাটি মাফিয়ারা সক্রিয় রয়েছে। এজেলার বিষ্ণুপুর মহকুমায় বালি মাফিয়াদের দাপট সবচেয়ে বেশি। বাঁকুড়া সদর মহকুমার অবস্থাও তথৈবচ। তবে ওই দুই মহকুমা এলাকায় সম্প্রতি পুলিস ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। সোনামুখীতে পুলিসের উপর আক্রমণ করে মাফিয়া মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায়। ফলে বর্তমানে মাফিয়ারা খাতড়া মহকুমার ব্লকগুলিকে ‘টার্গেট’ করেছে। সেখানে তারা রমরমিয়ে কারবার চালাচ্ছে। যত্রযত্র বালি ও মাটি কাটার ফলে নদনদীগুলির স্বাভাবিক গতিপথে পরিবর্তন হচ্ছে। তার ফলে পাড়ে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সিমলাপাল ব্লক এলাকায় শিলাবতী নদী তীরবর্তী এলাকাধিক গ্রাম আগামী দিনে ভাঙনের কবলে পড়বে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন। ফলে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। ইতিমধ্যেই চাষের খেত, বাগান নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। বসতবাড়িটুকু যাতে বাঁচে, তারজন্য তাঁরা প্রশাসনের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেআইনি বালি, মাটি, কয়লা, পাথর উত্তোলন ও পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের কথা জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা শুনেছেন। ফলে জেলা প্রশাসন বা ভূমিদপ্তর সদর্থক ভূমিকা না গ্রহণ করলে বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলেও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ