Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খেটে খাওয়া বিপ্লব জঙ্গি! হতবাক থানারপাড়া

খেটে খাওয়া বিপ্লব জঙ্গি! হতবাক থানারপাড়া
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, করিমপুর: জঙ্গি-যোগে ধৃত থানারপাড়ার বিপ্লব বিশ্বাসের পড়াশোনা স্কুলের গণ্ডি পেরোয়নি। দিনমজুরের কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালান। অথচ, সেই কি না জঙ্গি! বুধবার তার গ্রেপ্তারিতে হতবাক ধৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে মুর্শিদাবাদের পাঁচ এবিটি (বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লা বাংলা টিমের ) জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। হরিহরপাড়ার মিনারুল ও তার বন্ধু আব্বাসকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে অসম এসটিএফ। তাদের জেরা করে একাধিক তথ্য মেলে। সেই সূত্রে নদীয়ার থানারপাড়ার বাসিন্দা বিপ্লবের নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। মাসখানেক আগে তাকে কলকাতার এসটিএফ দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে  দেওয়া হয়। গত বুধবার আবার তাকে ডেকে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  বৃহস্পতিবার ধৃত বিপ্লবকে আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।  শুক্রবার বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তার মা মেনকা বিবি ছেলের জন্য কাঁদছেন। দুই ছেলে নিয়ে রয়েছেন বিপ্লবের স্ত্রী রুমনা খাতুন। বাবা আহাচাঁদ বিশ্বাস বাড়িতে নেই। ভাই নবাব বিশ্বাস মাঠে কাজে গিয়েছেন। মা জানান, বড় ছেলে বিপ্লব পড়াশোনা জানে না। তাদের বিঘা তিনেক জমি থাকলেও ছোট ছেলে নবাব দেখাশোনা করে। আর বিপ্লব আলাদা সংসার চালাতে অনেক আগে থেকেই পরের কিছু জমি চাষ করে আসছে। সেই সঙ্গে বাড়ির সামনে কলা হাটে লেবারের কাজ করে। মিনারুলকে সে চেনে না। স্যালো মেশিনের ভাল মিস্ত্রি হিসেবে এক আত্মীয়ের কাছে তার নাম শুনে মিনারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিপ্লব। মাস চারেক আগে একদিন এসে মিনারুল তাদের জমিতে সেচ দেওয়ার স্যালো মেশিন সারিয়ে যায়। তারপর থেকে তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। তার দাবি, প্রথম থেকেই বিপ্লবের একটিই নাম। পুলিস যে আবদুল্লা নাম বলছে সেই নাম তার ছেলের নয়। এখন পুলিস ভাল করে তদন্ত করলেই জানতে পারবে বিপ্লব নির্দোষ।  বিপ্লবের ভাই নবাব বলেন, তার দাদা জমি চাষ ও নিজের কাজ নিয়েই থাকে।  কলকাতা বা বহরমপুরে একা যায় না। মেশিন মেরামতের জন্য হরিহরপাড়ার মিনারুলের সঙ্গে একদিন মাত্র সাত মিনিট বিপ্লব ফোনে কথা বলেছিল। বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, বিপ্লব ছোট থেকেই মাঠের কাজ করে। পাড়ায় কারও সঙ্গে তার কখনও ঝামেলা বা গণ্ডগোল হয়নি। কিন্তু হঠাৎ তার সঙ্গে জঙ্গি-যোগ শুনে সকলেই অবাক হচ্ছেন। নতিডাঙা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মেরিনা বিশ্বাস বলেন, বিপ্লবের নামে কোনও অভিযোগ নেই বলে জানি। এক্ষেত্রে পুলিস সঠিক তদন্ত করলেই ঘটনার আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।  
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ