Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাঁটি খেজুর গুড় অমিল, দাপট বাড়ছেই ভেজাল কারবারিদের, বদনাম লালবাগের

খাঁটি খেজুর গুড় অমিল, দাপট বাড়ছেই ভেজাল কারবারিদের, বদনাম লালবাগের
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: ভেজাল খেজুর গুড়ে ছেয়ে গিয়েছে লালবাগ। আমবাঙালি খাঁটি খেজুর গুড়ের স্বাদ-গন্ধ তো ভুলতে বসেছেনই, পাশাপাশি  খেজুর গুড়ের মিষ্টির গুণমান বজায় রাখতে পারছেন না মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, হামেশাই খদ্দেরদের অভিযোগ শুনতে হচ্ছে। ভোজনরসিক বাঙালি থেকে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ভেজাল কারবারিদের রমরমা যেভাবে বাড়ছে তাতে হয়তো শীঘ্রই বাজার থেকে খাঁটি গুড় হারিয়ে যাবে।
Advertisement
ভোরে গাছ থেকে হাড়ি নামিয়ে রস ফুটিয়ে গুড় তৈরি হয়। ঘণ্টা দু’-তিনেক ফোটানোর পরে রসের ঘনত্ব বাড়ে এবং রং লালচে হতে শুরু করে। ঘনত্ব, স্বাদ ও গন্ধ ঠিকঠাক হলেই নামিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে এই ছবিটা খানিকটা বদলেছে। উনুন, কড়াই, হাড়িতে খেজুরের রস এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু কড়াইয়ে রস ঢেলে ফুটানোর সময় থেকে ছবিটা পাল্টে যাচ্ছে। রস ফুটতে শুরু করতেই অল্প অল্প করে চিনি মেশানো হয়। চিনি যত বেশি, মুনাফাও ততটাই বেশি। মুর্শিদাবাদ থানার হোসেনদালান এলাকার বাসিন্দা নৃপেন মণ্ডল এক দশকের বেশি সময় ধরে শীতের মরশুমে গাছ লিজ নিয়ে গুড়ের ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, এক কেজি গুড় তৈরি করতে ১০-১২ কেজি রস লাগে। জ্বালানির খরচ সহ এক কেজি গুড় তৈরি করতে খরচ পড়ে ১০০-১২০ টাকা। প্রতি কেজি গুড় ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি না করলে লাভ থাকে না। কিন্তু খদ্দেররা খাঁটি গুড়ের দাম ১০০-১২০ টাকার বেশি দিতে চান না। তাই বাধ্য হয়ে চিনি মেশাতে হয়। তাতে খরিদ্দারও খুশি হয়, লাভও থাকে। নশিপুরে খেজুর বাগান লিজ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় শিউলি বিধান মণ্ডল। তিনি বলেন, সব গাছে সমান রস হয় না। রস বিক্রি করে যেমন লাভ হয় না, তেমনি খাঁটি গুড় বিক্রি করে দাম পাওয়া যায় না। গরিব শিউলিদের আর্থিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে খেজুর গুড়ের কারবারিরা ভেজাল কারবার শুরু করেছে। ঠান্ডা পড়ার আগেই ভেজাল কারবারিরা হানা দেয় শিউলি পাড়ায়। দাদন হাতে ধরিয়ে সমস্ত গুড় কিনে নেওয়ার চুক্তি করে। ফলে কারবারিদের নির্দেশ মতো শিউলিরা গুড়ে চিনি মেশাতে বাধ্য হয়। আর এর ফলেই বাজার থেকে খাঁটি গুড় হারিয়ে যাচ্ছে। লালবাগের বাসিন্দা স্বপন মজুমদার বলেন, শীতকাল মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠেপুলি, পায়েস। শীতের পিঠেপুলি ও পায়েসে অন্যমাত্রা যোগ করে খাঁটি খেজুরের গুড়। কিন্তু ভেজালের দাপটে স্বাদ হারিয়েছে শীতের পিঠে-পায়েস। লালবাগ শহরের এক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বলেন, আগে শীতের সময় প্রায় রসগোল্লা, সন্দেশ থেকে রকমারি মিষ্টি খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি হতো। কিন্তু এখন খাঁটি গুড়ের অভাবে খদ্দের ধরে রাখতে হাতে গোনা কয়েক ধরনের মিষ্টিই তৈরি করা হয় গুড় দিয়ে।
সম্পর্কিত সংবাদ