সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুরের প্রাণকেন্দ্র খরিদায় দিনের বেশির ভাগ সময় রেল গেট বন্ধ থাকে। ফলে দুর্ভোগে পড়ত হয় বাসিন্দাদের। রেল গেটের দু’ দিকে গাড়ির লাইন পড়ে যায়। দেখা দেয় তীব্র যানজট। লাইন পারাপারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বাসিন্দাদের। এই লাইন দিয়ে দক্ষিণ পূর্ব রেলের হাওড়া-মেদিনীপুর শাখার লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন যাতায়াত করে। যায় মালগাড়িও। ফলে বার বার রেলগেট বন্ধ করতে হয়। বাসিন্দারা বলেন, স্কুল, কলেজের পড়ুয়াদের যেমন সমস্যায় পড়তে হয়। তেমনই বাসিন্দাদের দোকান, বাজার, ব্যাঙ্কে যেতেও সমস্যা হয়। এই রেল গেটের এক ধারে বেশির ভাগ ব্যাঙ্কের শাখা। সেই সব ব্যাঙ্কে গ্রাহকদের যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক বাসিন্দাদের পেনশেনের টাকা তুলতে রেলগেট পার হয়েই ব্যাঙ্কে যেতে হয়। রেল গেটের একদিক থেকে যেমন পড়ুয়াদের স্কুলে যেতে হয়। তেমনই অপর দিকের বাসিন্দাদের স্কুল, কলেজ যেতে হয় এই রেলগেট পার হয়েই। এখানে উড়ালপুল করার দাবি বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য কিছু দূরে গিরি ময়দান স্টেশনের কাছে উড়ালপুল নির্মাণ করেছে। সেই উড়ালপুল গত বছর জানুয়ারি মাসে খুলেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই উড়ালপুলের সঙ্গে খরিদাকে যুক্ত না করায় সমস্যা থেকেই গিয়েছে।
Advertisement
বাসিন্দারা বলেন, উড়ালপুল ব্যবহার করে যাতায়াতা করতে অনেক বেশি সময় লাগে। এক বাসিন্দা বুলা চৌধুরী বলেন, যাঁদের গাড়ি আছে, তাঁদের অনেকেই উড়ালপুল ব্যবহার করেন। কিন্তু যারা হাঁটা পথে বা সাইকেল, মোটর সাইকেলে যাতায়াত করেন, তাঁদের খরিদা রেল গেটই ব্যবহার করতে হয়। আর এক বাসিন্দা শেখ রমজান বলেন, আমাদের দাবি ছিল গিরি ময়দানের উড়ালপুলের সঙ্গে খরিদা রেলগেট যুক্ত করা হোক। নয়তো আন্ডারপাসের ব্যবস্থা করা হোক। সেই সময় রেল জানিয়েছিল খরিদায় উড়ালপুল যুক্ত করার মতো জায়গা নেই। বাসিন্দাদের দাবি, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা করা হোক। দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়্গপুরের ডিআরএম কে আর চৌধুরী বলেন, খরিদাতে একটি আন্ডারপাস তৈরির জন্য রেল বোর্ডের অনুমোদন মিলেছে। তবে এই কাজের জন্য কোনও টাকা বরাদ্দ হয়েছে কিনা তিনি তা জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, এই কাজ শেষ হতে প্রায় দু’বছর লেগে যাবে।



