Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খেপ ফুটবলে দাপট বাড়ছে আফ্রিকানদের

খেপ ফুটবলে দাপট বাড়ছে আফ্রিকানদের
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, তেহট্ট: এখন সারা বছর বিভিন্ন এলাকায় গ্রামে গঞ্জে চলছে ফুটবল প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতা  কখনও একদিনের হচ্ছে। আবার কখনও দিনকয়েক ধরে চলছে। কোনও কোনও প্রতিযোগিতা আবার দিন রাতে হচ্ছে। আর এই সব ফুটবল প্রতিযোগিতায় রাজত্ব করছে আফ্রিকা মহাদেশের ফুটবলাররা। এতে সমস্যায় পড়েছে এলাকার উঠতি ফুটবলাররা। তারা প্রতিভা দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার অনেকে বিশালদেহী আফ্রিকান ফুটবলারদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে চোট আঘাত পাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই হারিয়ে যাচ্ছে চিরতরে। এর ফলে এলাকার কিশোররা মাঠমুখো হচ্ছে না। এখন খেপ ফুটবলে সব দলেই আফ্রিকার ফুটবলারের ছড়াছড়ি। কোনও কোনও দলে সাত থেকে আটজন বিদেশি খেলোয়াড় থাকছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে কলকাতা ফুটবল লিগে বিদেশি ফুটবলার খেলানো যেত। এখন সেই নিয়ম না থাকায় গ্রামে গঞ্জে ফুটবল প্রতিযোগিতায় আফ্রিকার ফুটবলারদের রমরমা। আর যে সব প্রতিযোগিতা ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম মেনে হয় না সেখানে এদের খেলানোয় কোনও বাধা নেই। এরা ভারতে লেখাপড়া করতে বা অন্য কোনও কাজে আসে। তারপর এই খেপ ফুটবল খেলায় যোগ দেয়। এতে তারা যেমন টাকা উপার্জন করতে পারে তেমন দর্শকদেরও আনন্দ দিতে পারে। যদিও আগে এই সব ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ফুটবলারই সুযোগ পেত। তখন গ্রামীণ এলাকা থেকে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার কলকাতার বিভিন্ন দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেত। 
Advertisement
এরকম বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে উঠে এসেছেন সাহেব আলি ঘরামি। যিনি ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং এর মতো ক্লাবে খেলেছেন। ঠিক তেমন ভাবেই অমিতাভ বিশ্বাস, দীপ্তেন্দু সাঁতরা সহ অনেক ফুটবলার কলকাতার বিভিন্ন দলে যোগ দিয়েছেন। এখন দুই একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে বেশিরভাগ খেলাতেই আফ্রিকার ফুটবলারদের রমরমা। এমনকি একটা দলে সাত থেকে আট জন ফুটবলারই আফ্রিকার। এই দলে জেলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ পাচ্ছে না। 
এই নিয়ে এলাকার প্রাক্তন ফুটবলার তথা ক্রীড়া প্রশাসক গৌতম বিশ্বাস বলেন, একদিন, দুদিন বা তিনদিনের প্রতিযোগিতায় আফ্রিকার ফুটবলার দাপিয়ে খেলছে। আমাদের ঘরের ছেলেরা সুযোগ পাচ্ছে না। এতে আর যাই হোক ফুটবলের কোনও উন্নতি হচ্ছে না। এই প্রজন্মের ছেলেরা খেলার সুযোগ না পেয়ে মাঠ মুখো হচ্ছে না। আর যাঁরা এই সব প্রতিযোগিতা আয়োজন করছেন তাঁরা একদিনের আনন্দ উত্তেজনার জন্য করছেন। তাতে হয়তো মাঠে দর্শক আসছে। কিন্তু ফুটবলের উন্নতি হচ্ছে না। বাংলার ফুটবলের উন্নতি করার জন্য এলাকার ছেলেদের নিয়েই প্রতিযোগিতা করতে হবে। সেখানে কোনও বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো যাবে না। আফ্রিকার ফুটবলারদের বিশালদেহী চেহারার সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছে না স্থানীয় খেলোয়াড়ারা। তাঁরা বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের চোরাগোপ্তা আঘাত করছে। এতে এলাকার উঠতি খেলোয়াররা চোট আঘাত পাচ্ছে। তাই এই সব ফুটবল প্রতিযোগিতা আইএফএর নিয়মে করা উচিত। 
সম্পর্কিত সংবাদ