সংবাদদাতা, ইসলামপুর: গলা কেটে খুনের মামলায় দোষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল ইসলামপুর মহকুমা আদালত। আদালত সূত্রে খবর, ২০২২ সালের ৪ মে সকালে উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া থানার গোদাশিমুল সংলগ্ন হাসকুন এলাকায় এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃত মহম্মদ ইসলাম (৪১) গোদাশিমুল এলাকার বাসিন্দা। মৃতের পরিবার দেহ শনাক্ত করার পর চাকুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিস তদন্ত শুরু করে গোদাশিমুল এলাকার আসকর আলিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। সরকারি আইনজীবী মুখতার আহমেদ জানান, গোদাশিমুল এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ ইসলাম ও আসকর আলি নির্মাণ কাজে শ্রমিক সরবরাহ করতেন। ২০২২ সালের ৩ মে সন্ধ্যায় ইসলামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল আসকর। অনেকেই তাঁদের বাইকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিলেন। সেই রাতে ইসলাম বাড়ি ফেরেননি। পরের দিন সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। গলা সহ দেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃতের স্ত্রী জিন্নতুন বিবি খুনের অভিযোগ করেছিলেন। পুলিস ৯ মে আসকরকে গ্রেপ্তার করে। হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলেও খারিজ হয়েছিল। ২০ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর আদালত ধৃতকে দোষী সাব্যস্ত করে। শনিবার বিচারক নীলাঞ্জন দে সাজা ঘোষণা করেছেন। এই মামলায় পুলিসের তদন্তের প্রশংসা করেছে সব মহল। পুলিস সুপার ও অতিরিক্ত পুলিস সুপার মামলার দিকে সবসময় নজর রেখেছিলেন। তিনমাসের মধ্যে জমা করা হয়েছিল চার্জশিট। অতিরিক্ত পুলিস সুপার ডেন্ডুপ শেরপা বলেন,ওই যুবককে সরিয়ে দিতেই তাঁকে খুন করেছিল আসকর। মৃতের পরিবার এদিন আদালতে উপস্থিত ছিল। বাবার খুনির সাজা ঘোষণা হওয়ায় খুশি মৃতের ছেলে মহম্মদ আসিকুল। তিনি বলেন, বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা আজীবন থাকবে। তবে খুনির যাবজ্জীবন হওয়ায় আমরা একটু শান্তি পেলাম।



