সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: সংস্কার হওয়ার পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বেহাল হয়ে পড়েছে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে মহম্মদবাজারের দ্বারকা নদীর উপর দেউচা ব্রিজ। বেহাল ব্রিজের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পারাপার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেহাল ব্রিজের কারণে নিত্যদিন ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। যে এলাকায় এশিয়ার সর্ববৃহৎ কয়লা খনি প্রকল্পের জন্য কাজ শুরু হয়েছে, সেই এলাকায় ঢোকার মুখে ব্রিজের ভগ্ন অবস্থা।তার জন্য প্রশাসনের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। সিউড়ি থেকে রামপুরহাট যাওয়ার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এটি। শুধু তাই নয়, দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বেশ কয়েকটি ব্রিজের মধ্যে অন্যতম হল এই ব্রিজ। যদিও জাতীয় সড়কের উপর থাকা অধিকাংশ ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারের বছরখানেকের মধ্যে অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের ফলে বেহাল হয়ে পড়েছে দেউচা ব্রিজ। ফলে নিত্যদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকছে। পিচ উঠে গিয়ে পাথর বেরিয়ে পড়েছে। বড় গাড়ি যাতায়াতের ফলে সেই পাথর ছিটকে আহত হচ্ছেন পথচারীরা। এছাড়াও রাস্তায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টির কারণে ছোট গাড়ি নিয়ে অনেক সময় সেই গর্তের মধ্যেই পড়ে যাচ্ছেন বাইক, সাইকেল আরোহীরা। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর দেউচা পাচামি কয়লা প্রকল্পের খননস্থল যাওয়ার জন্য এই বেহাল ব্রিজ অতিক্রম করে যাতায়াত করতে হচ্ছে জেলাশাসক, এমনকী ভিভিআইপিদের। স্বয়ং জেলাশাসক এই ভগ্নপ্রায় ব্রিজ দিয়ে নিত্যদিন খননস্থলে যাতায়াত করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ জেলাশাসক এই ভগ্নপ্রায় ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করলেও আজ পর্যন্ত এই ব্রিজ সংস্কারের কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় বছর দুয়েক আগে এই ব্রিজ সংস্কার করা হয় ঘটা করে। উদ্বোধন করেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতে, সেই ব্রিজের অবস্থা আগের মতোই হয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সংস্কার করা হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজ অত্যন্ত বেহাল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তিন-চার আগে এই ব্রিজের মাঝের কিছুটা অংশ ভেঙে পড়ে।তাই ব্রিজ দিয়ে কয়েক মাস যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। প্রশাসনের তরফ থেকে সেতু সংস্কার করা হয়। সেই ব্রিজ ফের পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। বড় গাড়ি যাতায়াতের ফলে যেকোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এলাকায় যখন এত বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, তখন খুব দ্রুততার সঙ্গে এই ব্রিজটাও সংস্কার করা হোক। এ বিষয়ে সদর মহকুমা শাসক সুপ্রতীক সিনহা বলেন,ইতিমধ্যে ফোর লেনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার আগে ওখানে প্যাচওয়ার্কের কাজ চলছে। বেশ কিছু জায়গায় সেই কাজ শেষ হয়েছে।



