Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খামখেয়ালি আবহাওয়া, চলতি বছর রাজ্যে চায়ের উৎপাদন কমল আড়াই কোটি কেজি

খামখেয়ালি আবহাওয়া, চলতি বছর রাজ্যে চায়ের উৎপাদন কমল আড়াই কোটি কেজি
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। সঙ্গে পরিচর্যার অভাবে বাগানের হাল খারাপ। আর এরই জেরে গত বছরের তুলনায় এবার নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে চায়ের উৎপাদন কমল ২৫ মিলিয়ন কেজি বা আড়াই কোটি কেজি।এই পরিস্থিতিতে মাথায় হাত বাগান মালিকদের। একদিকে যখন রাজ্যের উৎপাদন কমছে, তখন নিলামেও দাম কমছে চায়ের। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত। প্রতিবার ডিসেম্বরের অন্তত দু’সপ্তাহ পর্যন্ত এ রাজ্যে চা বাগান থেকে পাতা তোলা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার টি-বোর্ডের নির্দেশিকার জেরে ৩০ নভেম্বর পাতা তোলা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এতে বাংলায় চা শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।
Advertisement
টি বোর্ডের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ রাজ্যে চা উৎপাদন হয়েছে ৩৬৯মিলিয়ন কেজি। গতবার এই সময়ে বাংলায় চা উৎপাদন হয়েছিল ৩৯৪ মিলিয়ন কেজি। সুতরাং গতবারের তুলনায় এবার রাজ্যে চায়ের উৎপাদন কমেছে ২৫ মিলিয়ন কেজি। দার্জিলিং, তরাই কিংবা ডুয়ার্স-সর্বত্র এবার ধাক্কা খেয়েছে চায়ের উৎপাদন। গতবার নভেম্বর পর্যন্ত দার্জিলিংয়ে চা উৎপাদন হয়েছিল ৫.৯২ (পাঁচ দশমিক বিরানব্বই) মিলিয়ন কেজি। এবার ওই সময়ে পাহাড়ে চা উৎপাদন হয়েছে ৫.৫৯ (পাঁচ দশমিক ঊনষাট) মিলিয়ন কেজি। তরাইয়ে গতবার নভেম্বর পর্যন্ত উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ছিল ২২১ মিলিয়ন কেজি। এবার উৎপাদন হয়েছে ২০৭ মিলিয়ন কেজি। ডুয়ার্সে গতবার নভেম্বর পর্যন্ত চা উৎপাদন হয়েছিল ১৬৭ মিলিয়ন কেজি। এবার হয়েছে ১৫৬ মিলিয়ন কেজি। তবে শুধু নভেম্বর মাসের হিসেব ধরলে বাংলায় চায়ের উৎপাদন বেড়েছে। গতবার নভেম্বরে এ রাজ্যে ৪০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। এবার নভেম্বরে উৎপাদন হয়েছে ৫৩ মিলিয়ন কেজি।
চা বাগান মালিকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অমৃতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা চা বাগানে সর্বনাশ ডেকে আনছে। যখন বৃষ্টি দরকার তখন হচ্ছে না। আবার কখনও এত বৃষ্টি হচ্ছে যে, চা বাগানের ক্ষতি হচ্ছে। সারাবছর পোকামাকড় থেকেই যাচ্ছে বাগানে।
ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, আগে সারাবছরে অন্তত ৯-১০ মাস বাগান থেকে পাতা পাওয়া যেত। এখন তা কমতে কমতে ছ’মাসে এসে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির অভাবে এবার বাগানে পাতা পেতে জুলাই মাস হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, এবার ৩০ নভেম্বর পাতা তোলা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চের আগে বাগানে উৎপাদন হবে না। ফলে লোকসানের বহর মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।
সম্পর্কিত সংবাদ