সংবাদদাতা, কাঁথি: পটাশপুরের পানিনালা খাল সংস্কারের দাবিতে এলাকার বাসিন্দারা সোমবার পথ অবরোধ ও বিক্ষোভে শামিল হলেন। এদিন সকাল ৭টা থেকে পটাশপুরের পালপাড়া কলেজ সংলগ্ন জোড়াকালী মন্দিরের কাছে এগরা-বাজকুল সড়কে টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবরোধ-বিক্ষোভ চলতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি , সম্বলিত প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে নিয়ে আন্দোলনে শামিল হন। অবরোধ-বিক্ষোভের জেরে রাস্তার দু’দিকে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। এলাকার মানুষ চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার হন। পটাশপুর থানার পুলিস অবরোধকারীদের বুঝিয়েও পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পারেনি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুলিস ও প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। শেষ পর্যন্ত বেলা ১২টা নাগাদ জেলাশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আজ, মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তরে খাল সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।
Advertisement
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতিবছরই পটাশপুরের পালপাড়া, গোনাড়া, চিস্তিপুর ভেড়ির ১৪টি গ্রামের চার হাজার একর জমি বন্যার জলে প্লাবিত হয়। কোনও বছরই আমন ধান ঘরে তুলতে পারেন না চাষিরা। এমনকী রাজনৈতিক মদতে এলাকার কয়েকজন মাছের ভেড়ি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তিনটি জায়গায় বাঁধ দিয়ে খালকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, যার ফলে ঘটেছে বিপত্তি। এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ‘পানিনালা খাল সংস্কার কমিটি’ গড়ে আন্দোলন শুরু করেছেন। অবরোধে নেতৃত্ব দেওয়া কমিটির উপদেষ্টা সূর্যেন্দুবিকাশ পাত্র, সভাপতি পরেশ আদক বলেন, আমরা পানিনালা খাল পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। এখনও মাঠে যে মাথা ছুঁইছুঁই জল রয়েছে, তা বের করার ব্যবস্থা করতে হবে। বোরো চাষের জন্য যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেটা দেখতে হবে। খাল সংস্কার কমিটির যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ জানা বলেন, মঙ্গলবারের আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে। খাল সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি থাকবে। বিডিও বিধানচন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসে এলাকার মানুষজন অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।



