Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খোয়াইয়ের হাটে পর্যটকদের গাড়ি ঢুকতে না দিলেও ঢুকছে ব্যবসায়ীদের গাড়ি, ক্ষোভ 

খোয়াইয়ের হাটে পর্যটকদের গাড়ি ঢুকতে না দিলেও ঢুকছে ব্যবসায়ীদের গাড়ি, ক্ষোভ 
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির হাটে পর্যটকদের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের প্রবেশ প্রায় প্রথম থেকেই বন্ধ। গাড়ি যাতে না ঢুকতে পারে, সেজন্য বনভূমির সীমানায় বড় বড় খাল কেটে রেখেছে বনদপ্তর। তবে পর্যটকদের গাড়ির প্রবেশ বন্ধ হলেও অবলীলায় ঢুকছে ব্যবসায়ীদের মালবাহী গাড়ি। ফলে নির্বিচারে মারা পড়ছে চারাগাছ। বনদপ্তরের এই দ্বিচারিতায় ক্ষুব্ধ ভ্রমণার্থী ও পরিবেশপ্রেমীরা।‌ তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম হলে তা সবার ক্ষেত্রে এক হওয়া উচিত। যদিও বনদপ্তরের দাবি, শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য। তবে বিকল্প ব্যবস্থার জন্য ব্যবসায়ীরা কিছুদিন সময় চেয়েছেন। শীঘ্রই তাদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। 
Advertisement
পর্যটকদের কাছে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির হাট অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানীয় হস্তশিল্পীরা নিজেদের তৈরি পসরা এখানে বিক্রি করেন। ‌তবে সাম্প্রতিককালে অনেক ব্যবসায়ী বাইরে থেকে পোশাক কিনেও বিক্রি করছেন হাটে। সোনাঝুরির দেখাদেখি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের হাট গড়ে উঠলেও জনপ্রিয়তা নিরিখে শীর্ষে শান্তিনিকেতনের এই হাট। একটা সময়ে এই হাট সপ্তাহে একদিনই বসত। সেই জন্য এর পোশাকি নাম ছিল শনিবারের হাট। এরপর প্রায় প্রতিদিন হাট বসার কারণে জঙ্গলের পরিবেশ ও বৈচিত্র্যে প্রভাব পড়তে শুরু করে। মাঝে বেশ কিছুদিন সপ্তাহের চার দিনের বেশি বসা যাবে না বলে নির্দেশ দেয় বনদপ্তর। কিন্তু তার তোয়াক্কা না করে এখন সপ্তাহে ছ’ দিন হাট বসছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গাড়ি ঢোকা নিষিদ্ধ করেছে বনদপ্তর। ‌কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নিয়ম কোনও কালেই হাটের ব্যবসায়ীদের মানতে দেখা যায়নি। তাঁদের গাড়ি ঢোকায় যানজট, চারাগাছ ধ্বংস সহ দূষণ বৃদ্ধি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্থানীয় আদিবাসী ও পরিবেশবিদরা। পাশাপাশি, বনদপ্তরের এই দ্বিচারিতায় পর্যটকরাও ক্ষুব্ধ। নদীয়ার দেবগ্রামের দেবাশিস চক্রবর্তী ও কলকাতা দমদম থেকে আগত শুভ্রনীল সেনগুপ্ত বলেন, চড়ামূল্যে গাড়ি পার্কিং করে খোয়াই হাটে এসে দেখছি সারিবদ্ধ ভাবে গাড়ি দাঁড়িয়ে। পরে জানতে পারছি এগুলো ব্যবসায়ীদের। অর্থাৎ বনদপ্তরের নিয়ম সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না। এগুলো দ্বিচারিতা। বোলপুর বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মন বলেন, দীর্ঘকাল ধরে হয়ে আসা অনিয়মকে শুধরোতে একটু সময় তো লাগবেই। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। তাঁরা বিকল্প ব্যবস্থার জন্য কিছু সময় চেয়েছেন। আশাকরি, বনভূমিতে যানবাহন প্রবেশ খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ