সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: রেলের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত কোয়ার্টার সংস্কারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে খড়্গপুর শহরের সিএমই গেট এলাকায় উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার সকালে সেখানে জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে রেল আধিকারিকদের ফিরে যেতে হয়। এদিন এডিআরএম মণীষা গোয়েলের নেতৃত্বে রেলের আধিকারিক ও আরপিএফ এলাকায় আসে। অভিযোগ, তাঁরা ওই এলাকায় রেলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে থাকা বাসিন্দাদের কোয়ার্টার ছেড়ে চলে যেতে বলেন। খবর পেয়ে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার এলে তাঁর সঙ্গে রেল আধিকারিকদের বচসা বেধে যায়। এলাকার বাসিন্দারাও বিক্ষোভ দেখান। এরপরই রেল আধিকারিকরা ফিরে যান। কাউন্সিলার রোহন দাস বলেন, এখানে বিভিন্ন কোয়ার্টার ভেঙে পড়ছে। যাঁরা থাকেন, তাঁরা সংস্কার করতে গেলে রেল বাধা দিচ্ছে। তাঁদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে। শুক্রবার সন্ধ্যাতেও এক বাসিন্দাকে কোয়ার্টার সংস্কারে বাধা দেওয়া হয়। বাড়িতে ঢুকে নানারকম হুমকি দেওয়া হয়। সেসময় আমাদের প্রতিবাদে রেলের লোকজন ফিরে যায়। এদিন ফের এডিআরএম সহ একাধিক আধিকারিক, আরপিএফ বাড়ি বাড়ি ঢুকে শাসানি দেয়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশে রেল আধিকারিকরা এসব করছে। এখানে বাংলাদেশি রয়েছে বলেও বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদিন বচসার সময় কাউন্সিলারকে আধিকারিকের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশি কোথায় আপনাকে তা প্রমাণ করতে হবে।’ এডিআরএম বলেন, আমরা এখানে স্বচ্ছতা অভিযানে এসেছিলাম। অন্য কোনও কারণ নেই। খড়্গপুরের সিনিয়র ডিসিএম অলোক কৃষ্ণা বলেন, এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। বিজেপির খড়্গপুরের কোঅর্ডিনেটর গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা সম্পূর্ণ রেলের বিষয়। এর আগেও রেলের বিরুদ্ধে একাধিকবার উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কর্মীদের বাধার মুখে তাদের ফিরে যেতে হয়েছে। খড়্গপুরে এসে রেলের একাজের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছিলেন।



