নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: খেজুরি-২ ব্লকে কশাড়িয়া গ্রামে পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশি সভা বসিয়েছিলেন বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান। থানা-পুলিশ না করে দু’পক্ষকে টাকার বিনিময়ে মিটমাটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। এমনটাই অভিযোগ। কিন্তু সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় শিশুটির পরিবার। তাঁরা সটান চলে যান তালপাটিঘাট কোস্টাল থানায়। এনিয়ে এফআইআর দায়ের করেন। শনিবার সন্ধ্যায় ধরা পড়ল ১৫ বছরের অভিযুক্ত এক কিশোর। এদিকে, নির্যাতিতা ওই কন্যাশিশুটি প্রচণ্ড অসুস্থ। একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নির্যাতিত শিশুর পরিবার ও ধৃত কিশোরের পরিবার বিজেপি সমর্থক।
অভিযোগ, দু’টি পরিবার বিজেপি করার সুবাদে শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মতো একটি ন্যক্কারজনক ঘটনাকে চাপা দিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিলেন খেজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান কালীপদ মণ্ডল। সেই মতো উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশিসভা বসিয়েছিলেন। কিন্তু, শেষমেষ প্ল্যান ভেস্তে যাওয়ায় বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। সুযোগ বুঝে তেড়েফুঁড়ে উঠেছে তৃণমূল। রবিবার ঘটনাস্থলে যান কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা সহ ব্লক নেতৃত্ব। তিনি প্রধানের ভূমিকা নিন্দা করে ওই শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। কাঁথির এসডিপিও দিবাকর দাস বলেন, ‘পাঁচ বছরের শিশুর উপর যৌন হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
জানা গিয়েছে, পাঁচ বছরের ওই শিশুকন্যাটি মামার বাড়িতে থাকে। আবার ধৃত কিশোর ও তার দিদিও মামার বাড়িতে থাকে। নিগৃহীতা ধৃতের দিদির কাছে টিউশনি পড়ত। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সন্ধ্যায় সে পড়তে গিয়েছিল। ঘটনার সময় অভিযুক্তের দিদি ঘুমিয়েছিল। পরিবারের অন্য সদস্যরাও সে সময় বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে ওই কন্যাশিশুটিকে একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে পাশবিক অত্যাচার করে বলে অভিযোগ। বাড়ি ফিরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়ির লোকজনকে গোটা ঘটনার কথা জানায়। খেজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কালীপদবাবু স্থানীয় বুথ থেকেই নির্বাচিত। মেয়েটির পরিবার সবার আগে তাঁকে ওই ঘটনার কথা জানায়।
অভিযোগ, শনিবার খেজুরি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিশি সভা করেন। সেখানে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফা করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। শিশুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানে তৃণমূলের বুথ সভাপতি এবং গ্রামের শাসক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানের দাবি। মিটমাটের চেষ্টা ব্যর্থ হতেই বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান রণেভঙ্গ দেন। নিগৃহীতা শিশুর বাড়ির লোকজন থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করেন। রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। খেজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজেপির কালীপদবাবু বলেন, ‘মেয়েটির বাড়ির কাছে একটি সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্বও উপস্থিত ছিলেন। আমাকে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে ডাকা হয়েছিল। তাই আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সালিশি সভার সিদ্ধান্ত ওই শিশুর পরিবার না মানায় সেটি ভেস্তে যায়। তারপরই শাসক দলের পক্ষ থেকে মিটমাট করার দায় আমার ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেরা হাত ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা জঘন্য। এরকম ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনও ইচ্ছা আমার নেই। আমি চাই, আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’
জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষকান্তিবাবু বলেন, ‘ওই নির্যাতিতা শিশুর পরিবার সবার আগে প্রধানের নজরে বিষয়টি এনেছিল। তাই এফআইআর না করে মিটমাটের চেষ্টা হয়। ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শিশুর পরিবার থানায় গিয়ে এফআইআর করে। আমাদের কোনও নেতৃত্ব সালিশিতে অংশ নেয়নি।’