সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: খাদ্যদপ্তরে পাকা চাকরি। তার জন্য ধাপে ধাপে নেওয়া হয় ন’লক্ষ টাকা। বিশ্বাস তৈরির জন্য কলকাতায় খাদ্যদপ্তরে নেওয়া হয়েছিল ভুয়ো ইন্টারভিউও। কিন্তু, পরে বুঝতে পারেন সবটাই ভুয়ো। তাই টাকা ফেরত চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরের কথা, দলবল নিয়ে এসে চাকরি প্রার্থীরই বাড়িতে হামলা চালায় অভিযুক্ত। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। এনিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন পাত্রসায়রের যুবক। তাঁর অভিযোগ, তিনি প্রথমে থানায় অভিযোগ জানান। কিন্তু, তাতে কোনও সুরাহা হয়নি। তাই তিনি বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের তরফে তাঁর মামলার আবেদন পাত্রসায়র থানায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
Advertisement
আদালত ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাত্রসায়রের কাকরডাঙা এলাকার ওই যুবক বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কিন্তু, চাকরি হচ্ছিল না। ২০১৯সালে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁকে খাদ্যদপ্তরে চাকরি করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কলকাতার এক ব্যক্তি তার ছেলেকে চাকরি করে দিয়েছে। ওই ব্যক্তিকে ছ’লক্ষ টাকা দিলে খাদ্যদপ্তরে চাকরি হয়ে যাবে বলে জানায়। ওই প্রস্তাবে যুবকটি রাজি হয়ে যান। দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি প্রথমে চার লক্ষ টাকা নেয়। বাকি টাকা চাকরি পাওয়ার পরে নেওয়ার কথা বলে। এরপরেই কলকাতায় খাদ্যদপ্তরে তাঁর ভুয়ো ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পরে তাঁকে জানানো হয়, তিনি পাশ করেছেন। তাঁর চাকরি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তখনই তাঁকে বাকি দু’লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়। চাকরির আশায় তিনি সেখানেই দু’লক্ষ টাকা অভিযুক্তদের দিয়ে দেন। কিন্তু, তারপর দু’মাস কেটে গেলেও নিয়োগপত্র হাতে পাননি। কারণ হিসেবে তারা জানায়, আরও টাকা লাগবে। সেই মতো তিনি আরও ৫০হাজার টাকা দেন। তারপরেও কয়েকমাস কেটে গেলে আরও তিন লক্ষ টাকা লাগবে বলে জানায়। এরপর ধার দেনা করে ধাপে ধাপে তিনি আড়াই লক্ষ টাকা তুলে দেন। কিন্তু, তারপরেও চাকরি হয়নি। কারণ হিসেবে প্রতারকরা জানায় দপ্তরের এক অফিসারকে ১০লক্ষ টাকা দিতে হবে। তবেই চাকরি হবে। এরপরেই ওই যুবকের টনক নড়ে। টাকার খিদে ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তাঁর সন্দেহ হয়। তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে বুঝতে পারেন। কিছুদিন পর অভিযুক্তরা ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেয়। যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি স্থানীয় অভিযুক্তের বাড়িতে যান। তখন সে দু’বছরের মধ্যে সমস্ত টাকা ফেরতের আশ্বাস দেয়। দু’বছর অপেক্ষার পর টাকা চাইতে গেলে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয়। এমনকী প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরেই একদিন স্থানীয় বাজারে পেয়ে সকলের সামনে অভিযুক্তকে দেখিয়ে প্রতারণার কথা জানিয়ে তার মুখোশ খুলে দেন। তারপর সে কিছু দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে যুবকের বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকী আগ্নেয়াস্ত্র বের করে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। বাড়ির লোকজন চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা চলে আসায় অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রতারিত যুবক ডাকযোগে পুলিসের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু, তাতে কোনও সুরাহা না হওয়ায় তিনি বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হন। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।



