Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাদানের শেয়ার বেচে মুনাফার পাহাড় গড়ছে ঝাড়খণ্ড, বিহারের ব্যবসায়ীরা

খাদানের শেয়ার বেচে মুনাফার পাহাড় গড়ছে ঝাড়খণ্ড, বিহারের ব্যবসায়ীরা
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ঝাড়খণ্ড, বিহারের ব্যবসায়ীরা দ্বারকেশ্বর ও দামোদরে খাদানের লিজ নিলেও শেয়ার বেচেই তারা মুনাফার পাহাড় গড়ছে। আর বাঁকুড়ার রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ ‘সাদা সোনা’র কারবারে নেমে প্রভাব খাটানোয় খাদানের এলাকা দখল নিয়ে অশান্তি ছড়াচ্ছে। এতে খাদান লাগোয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। শনিবার প্রাক্তন এক তৃণমূল নেতা সোনামুখীর কুলডাঙা মোড়ে আন্দোলনে নামেন। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ীকে ৩২ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও খাদানের শেয়ার দেওয়া হয়নি। তাই সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করে অবস্থানে বসেন। অগ্রিম টাকা নেওয়ার পরেও ঝাড়খণ্ডের ওই ব্যবসায়ী শেয়ার না দিয়ে তা বেশি টাকায় প্রভাবশালীদের বেচে দিয়েছেন। তাই খাদানের শেয়ার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি করেন।
Advertisement
তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা খাদানের লিজ নিলেও তা নিজেরা চালাচ্ছে না। অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাদের কাছ থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে খাদানের শেয়ার কিনছে বলে আমাদের কাছে খবর আসছে। এনিয়ে এলাকায় অশান্তি হচ্ছে। তাতে এলাকায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমাদের পরিষ্কার নির্দেশ রয়েছে, দলকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বালি খাদান বিষ্ণুপুর মহকুমায় রয়েছে। দ্বারকেশ্বর ও দামোদর এই দুই নদ থেকেই ভালো মানের বালি পাওয়া যায়। আগে নদের বালির এত কদর ছিল না। পরবর্তীকালে বিপুল চাহিদা বাড়ায় সোনামুখী, পাত্রসায়র, ইন্দাস, বিষ্ণুপুর, জয়পুর, কোতুলপুর ব্লকের খাদান কয়েকশো কোটি টাকা দরে ইজারা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দুই নদের বালি কার্যত ‘সাদা সোনা’য় পরিণত হয়েছে। আগে জেলার ব্যবসায়ীরা লিজ নিলেও বর্তমানে এক একটি খাদানের লিজের অঙ্ক আকাশ ছুঁয়েছে। তাই বর্তমানে খাদানের রাশ ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গিয়েছে। তারা আবার খাদানের শেয়ার জেলার ব্যবসায়ীদের মোটা টাকায় বেচে দিচ্ছে। 
এতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি হলেও বালির দাম তরতরিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে প্রভাবশালী নেতাদের একাংশ খাদানের শেয়ার কেনায়  তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে খাদানের  দখলদারির অভিযোগও উঠছে। সেই কারণে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এমনিতেই খাদানের বালি পরিবহণের কারণে রাস্তার বেহাল অবস্থা। তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ আছেই। তার উপর অশান্তির পরিবেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইন্ধন থাকায় শাসকদলের অস্বস্তি বাড়ছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সোনামুখীর কুলডাঙা এলাকায় নতুন একটি খাদান খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই খাদানের লিজ নিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ী। তৃণমূলের এক প্রাক্তন নেতা যিনি ২০২২সালে সোনামুখী পুরসভার ১১নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সেই অভিজিত পাল শনিবার হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঝাড়খণ্ডের ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। আর এনিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ