নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়গপুর: বাজার, নাকি পুকুর? আচমকা দেখলে বোঝার উপায় নেই। সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি। আর তাতেই এক হাঁটুর বেশি জল বাজার চত্বরে। ব্যবসা করা তো দূরের কথা, বিক্রির জন্য আনা মাছ ভেসে যাবে না তো? এই চিন্তায় মাথায় হাত উঠেছে ব্যবসায়ীদের। জল জমে থাকায় বসতেও পারেননি সব্জি বিক্রেতারাও। ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। ছবিটা খড়গপুর শহরের গোলবাজারের। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে ব্যবসা করার জন্য রেলের তরফে টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু গোলবাজারের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কিছুই করে না। এক টানা বৃষ্টি হলেই গোটা বাজার জলের তলায় চলে যায়। রেলের কাছে বহুবার অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই বাজারে গোটা শহরের মানুষ আসনে। বাজারে যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও বেহাল। নিত্যদিন দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু রাস্তা সংস্কারেরও উদ্যোগ নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী অমরেশ হালদার, রাহুল আড়ি বলেন, বৃষ্টি হলে মানুষ বাজারে ঢুকতে পারে না। ব্যবসা লাটে ওঠে। রেল নিকাশি ব্যবস্থা সমস্যার সমাধান করলে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। বহুবার অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোলবাজারের বয়স একশোরও বেশি। খড়গপুর রেলের কারখানাকে কেন্দ্র করেই গোলবাজারের পথ চলা শুরু। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা চিন্তা করেই রেল কর্তৃপক্ষ এ বাজারটি তৈরি করেছিল। শোনা যায়, বাজারটি খড়গপুর শহরের একেবারে মাঝখানে অবস্থিত বলে নাম দেওয়া হয়েছিল গোলবাজার। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যতম বড় এই বাজারে ভূষিমাল থেকে জামাকাপড়, হাল ফ্যাশনের নানা সামগ্রী থেকে কাঁচামাল সবই মেলে। এই বাজারে প্রায় দু’ হাজার দোকান রয়েছে। এ ছাড়াও কয়েকশো ছোট ছোট দোকান আশপাশে রয়েছে। অভিযোগ, বাজারের বয়স বাড়লেও পরিকাঠামোগত বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। ঘিঞ্জি এলাকার জন্য সমস্যায় পড়তে হয় মানুষকে। শহরবাসীর ক্ষোভ বাড়লেও উদাসীন রেল কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, বাজারের নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তার হাল, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে রেলের তরফে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয় না।



