সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ব্যাগ ভর্তি ফর্ম সিক্স নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের কার্যালয়ে জমা দিতে গিয়েছিলেন যে ব্যক্তি, তিনি খড়্গপুরের বিজেপি নেতা। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রেল শহর খড়্গপুরে। তৃণমূলের অভিযোগ, দু’টি ব্যাগে করে হাজার হাজার ফর্ম সিক্স নিয়ে সিইও দপ্তরে গিয়েছিলেন ওই বিজেপি নেতা। সাধারণ মানুষ তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে। তারপরও কয়েক হাজার ফর্ম জমা দিয়েছেন তিনি। ওই ফর্মের মাধ্যমে বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম তালিকায় তোলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন খড়্গপুর শহর তৃণমূল নেতারা। যদিও বিজেপির দাবি, খড়্গপুর শহরের প্রকৃত ভোটারদের নাম যাতে বাদ না যায়, সেজন্যই তাঁদের ফর্মগুলি নিয়ে সিইও দপ্তরে গিয়েছিলেন দলের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি ও বিএলএ শ্রী রাও।
মঙ্গলবার ‘ফর্ম-৬’ ভর্তি একটি ব্যাগ এবং একটি বান্ডিল সহ সিইও দপ্তরে ঢুকতে দেখা যায় খড়্গপুরের বিজেপি নেতা তথা বিএলএ-১ শ্রী রাওকে। এরপরই সিইও দপ্তরের সামনে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তাঁর তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। শ্রীকে মারধর কর হয় বলেও অভিযোগ। পরে অবশ্য পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ব্যাগ ও বান্ডিল সিইও দপ্তরে জমা করেন জেলা বিজেপি নেতা শ্রী রাও। এই বিষয়ে বুধবার খড়্গপুর সদরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার নিজের কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। প্রদীপের অভিযোগ, বিহার, উত্তরপ্রদেশের লোকজনদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে চাইছে বিজেপি। ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের হাজার হাজার ফর্ম নিয়ে গিয়েছিলেন শ্রী রাও। দু’টি ব্যাগ সহ তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বিক্ষোভরত বিএলওরা। সেইসঙ্গেই প্রদীপের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে খড়্গপুর সদর বিধানসভায় বিজেপি ভিন রাজ্যের লোকেদের নাম ঢোকাতে চাইছে। সেজন্যই হাজার হাজার ফর্ম-৬ জমা দেওয়া হয়েছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ চলবে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকেও গর্জে ওঠার আহ্বান জানান তৃণমূলের খড়গপুর শহর কোর কমিটির সদস্য প্রদীপ সরকার, কল্যাণী ঘোষ, দেবাশিস চৌধুরীরা।
পাল্টা বিজেপি নেতা শ্রী রাও বলেন, খড়্গপুরের বহু ‘জেনুইন’ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তেলুগু সহ বেশিরভাগই অবাঙালি ভোটার। কিছু বাঙালি ভোটারও আছেন সেই তালিকায়। আমরা বাদ পড়ে যাওয়া ভোটারদের নিয়ে মেদিনীপুরে জেলাশাসকের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে বলা হয়, এখানে কিছু হবে না। অনলাইনে করতে হবে। সবাই তো আর অনলাইনে এইসব কাজ করতে পারবেন না। তাই সিইও দপ্তরে গিয়েছিলাম। তাঁর কাছে খুব বেশি হলে ২০০-৩০০ ফর্ম ছিল বলেও দাবি শ্রী রাওয়ের। এই বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, আবেদন জানালেও এই মুহূর্তে ফর্ম সিক্সের কোনো কাজ হবে না। তবে তা জমা নেওয়া হবে। অনলাইনেও এই আবেদন করা যাবে। অফলাইনেও মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে বা ইআরও অফিসে ফর্ম সিক্স জমা দেওয়া যাবে। তা সত্ত্বেও বিজেপির এজেন্টরা কেন সরাসরি সিইও দপ্তরে যাচ্ছেন, সেই প্রশ্নই তুলছেন শাসকদলের নেতারা। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা।