Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁশকুড়ার খণ্ডখোলা পঞ্চায়েত উন্নয়নে জেলার মধ্যে ‘লাস্ট বয়’

পাঁশকুড়ার খণ্ডখোলা পঞ্চায়েত উন্নয়নে জেলার মধ্যে ‘লাস্ট বয়’
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঁশকুড়া: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মাত্র ৩৬শতাংশ অর্থ খরচ করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে সবার নীচে পাঁশকুড়ার খণ্ডখোলা পঞ্চায়েত। ওই পঞ্চায়েত ২০২৪-’২৫আর্থিক বছরে মোট ২৪লক্ষ ৬৫হাজার ২৯২টাকা পেয়েছিল। উন্নয়নের জন্য পাওয়া ওই টাকার মধ্যে ১৫লক্ষ ৬৩হাজার ৩৮টাকা পড়ে রয়েছে। খরচ হয়েছে মাত্র ৯লক্ষ ২২৫৪টাকা। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকা খরচের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরে ২৫টি ব্লকে ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে খণ্ডখোলা পঞ্চায়েত ২২৩নম্বরে রয়েছে। উন্নয়নে এই হতাশাজনক পারফরমেন্সের জন্য তৃণমূলের অঞ্চল প্রধান দলেই তোপের মুখে পড়েছেন।

Advertisement

২০২৩সালে খণ্ডখোলা পঞ্চায়েতে মোট ১৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূল এককভাবে ১১টি আসনে জয়ী হয়। এছাড়াও বিজেপি চারটি এবং সিপিএম দু’টি আসনে জিতেছিল। তৃণমূল এককভাবে বোর্ড গঠন করতে পারত। কিন্তু, তৎকালীন দলের অঞ্চল সভাপতি জয়দেব মাইতি নিজে প্রধান হওয়ার জন্য গোপনে বিজেপি এবং সিপিএমের সঙ্গে বোঝাপড়া সারেন। দলের আরও দুই সদস্য সহ বিজেপি এবং সিপিএম সদস্যের সমর্থন নিয়ে জয়দেববাবু প্রধান হন। উপপ্রধান হন আলেয়া খাতুন। তিনিও তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন। কিন্তু, বিরোধীদের সঙ্গে গোপন আঁতাতে জয়দেববাবুর সঙ্গী ছিলেন আলেয়া। বোর্ড গঠনের দিন ওই ঘটনায় প্রধান এবং উপপ্রধানকে শোকজ করেছিল দল। এরপর আর চূড়ান্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যেকারণে দলের আনুগত্য বজায় রাখা পঞ্চায়েত সদস্যদের মধ্যে এনিয়ে অভিমান রয়েছে।
সিপিএম ও বিজেপির সদস্যদের সমর্থন নিয়ে তৃণমূল নেতার বোর্ড আপাতত উন্নয়নে কোনও দিশা দেখাতে পারছে না। ২০২৪-’২৫আর্থিক বছরে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পাওয়া সিংহভাগ টাকা এখনও পড়ে রয়েছে। যদিও স্থানীয় বাহারপোতা, চাকদহ সহ বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার হাল খুব খারাপ। গতবছর বন্যায় খণ্ডখোলা পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা জলবন্দি ছিল। সেই জল নেমে যাওয়ার পর রাস্তাঘাটের কঙ্কালসার অবস্থা। উন্নয়নের টাকা এসে পড়ে থাকলেও বেহাল রাস্তাঘাট সারানো হয়নি।
২০১৮-’২৩ টার্মে ওই পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের আভারানি মান্না বলেন, অঞ্চল সভাপতি দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বোর্ড করেছেন। এজন্য দলের পক্ষ থেকে শোকজ ছাড়া কঠোর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েত উন্নয়নের কাজে ব্যর্থ। আমাদের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি প্রধান হলেও দলের প্রতি আনুগত্য রাখায় আমরা গুরুত্ব পাচ্ছি না। বিরোধীদের মতো আমাদের সঙ্গে আচরণ করা হয়। এর চেয়ে আফশোসের কিছু হয় না। 
খণ্ডখোলা পঞ্চায়েতের প্রধান জয়দেব মাইতি বলেন, মার্চ মাস থেকে ই-স্বরাজ পোর্টাল কাজ করছে না। তাই আমরা পেমেন্ট করতে পারিনি। যেকারণে আমাদের ইউসি(ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট) জমা পড়ছে না। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের নজরে আনার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ