Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবৈধ নির্মাণ ভাঙা শুরু বর্ধমানে তেজগঞ্জে চলল বুলডোজার

বর্ধমান শহরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হল। মঙ্গলবার তেজগঞ্জে একটি অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়।

অবৈধ নির্মাণ ভাঙা শুরু বর্ধমানে তেজগঞ্জে চলল বুলডোজার
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হল। মঙ্গলবার তেজগঞ্জে একটি অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। শুধু বর্ধমান নয়, এবার থেকে গুসকরা, কালনা, কাটোয়ার মতো শহরগুলিতেও অভিযান শুরু হবে। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ এলেই আধিকারিকদের কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক শ্বেতা আগারওয়াল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে অবৈধ নির্মাণকারীদের নোটিস দেওয়া হবে। সাতদিনের সময়সীমা দেওয়া হবে। তা না হলে পুরসভা বুলডোজার নিয়ে হাজির হবে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া এবং কালনার কয়েকটি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রভাবশালীদের মদতে পুকুর ভরাট করে নির্মাণ হয়েছে। সেগুলি নিয়েও তদন্ত করা হবে। পুরসভার আধিকারিকদের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া আমজনতাও নির্দিষ্টভাবে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। আধিকারিকরা তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেবেন। বর্ধমানের মতো কাটোয়া শহরেও অবৈধ নির্মাণকারীদের সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। কয়েকজন প্রভাবশালী বেনামে নির্মাণ কাজে মোটা টাকা বিনিয়োগ করেছেন। পুরসভায় তাঁদের যথেষ্ট দাপট ছিল। এতদিন তাঁদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাত না। ওই প্রভাবশালীরা নির্মাণ করতে নিয়মের তোয়াক্কা করেছিল কি না, সেটা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখবেন। কালনার এক প্রভাবশালীর মদতে পুকুর ভরাট করে অবৈধ নির্মাণ হয়েছিল বলে বহুদিন ধরে চর্চা রয়েছে। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
এক আধিকারিক বলেন, শুধু শহর নয়, পঞ্চায়েত এলাকাতেও অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হবে। সরকারি জায়গা যাঁরা জবর দখল করে দোতলা বাড়ি তৈরি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্ধমান শহরেই প্রায় ১৫০টি অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। এরমধ্যে ৩০জন নির্মাণকারীকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সামনের সপ্তাহে আরও কয়েকটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হবে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, সম্প্রতি নির্মাণ কাজে বর্ধমানে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে উঠেছিল। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই বহুতল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহরে একের পর এক পুকুর ভরাট হলেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুর কর্তৃপক্ষ নাম কা ওয়াস্তে কয়েকটি ভরাট হওয়া পুকুর থেকে মাটি তুললেও কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। তাতে অবৈধ নির্মাণকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। 
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, কয়েক দিন আগেই পুরসভায় গিয়ে বৈঠক করেছি। কোনো ধরনের অনিয়ম করা চলবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের আর এক আধিকারিক বলেন, বর্ধমান শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাতেও কয়েটি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেগুলিও নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ ভাঙার পাশাপাশি নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ