Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিন শিক্ষক ও এক কর্মীর চাকরি যাওয়ায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের স্কুলে অচলাবস্থা

তিন শিক্ষক ও এক কর্মীর চাকরি যাওয়ায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের স্কুলে অচলাবস্থা
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: শিক্ষক সঙ্কটে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের গোপালবেড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের জেরে বিদ্যালয় পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। এই স্কুলের তিনজন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক এবং একজন অশিক্ষক কর্মীর চাকরি গিয়েছে।

Advertisement

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন শিক্ষক এবং একজন গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার পর থেকেই অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। একদিকে শিক্ষকের অভাবে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, অন্যদিকে অশিক্ষক কর্মচারীর কাজ, সব মিলিয়ে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে বাকি শিক্ষকদের উপর। এর ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে এক চাকরিহারা গ্রুপ ডি কর্মী রনজিৎ মণ্ডল বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে কাজ করার পর চাকরি হারানো আমাদের কাছে শুধুমাত্র আর্থিক নয়, মানসিক দিক থেকেও বিপর্যয়। তিনি আরও বলেন, আমরা যোগ্য ছিলাম। কাজও করেছি নিষ্ঠার সঙ্গে। এখন হঠাৎ করে আমাদের বলছে যে, ভলান্টারি সার্ভিস দিতে। কেন দেব? আমরা আবার পরীক্ষা দিতে রাজি নই। শুধু চাই, পুরনো কাজটাই যেন ফিরে পাই। তাঁর প্রশ্ন, একবার তো যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছি। নানা ধাপ পার হয়ে কাজ করছিলাম। আর কতবার প্রমাণ দিতে হবে? স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপসকুমার ভট্টাচার্য বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে পলিটিক্যাল সায়েন্স, সংস্কৃত আর এডুকেশনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক এই মুহূর্তে নেই। এখনও কেউ ভলান্টারি সার্ভিস দিতে এগিয়ে আসেননি। যতটা সম্ভব বর্তমান শিক্ষক আর পার্টটাইম টিচারদের দিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সহ শিক্ষক প্রশান্তকুমার সাহা বলেন, একজন মাত্র গ্রুপ ডি কর্মী ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে তাঁর চাকরি গিয়েছে। ফলে, গ্রুপ ডি কর্মীর যেসব কাজ যেমন, ঘণ্টা দেওয়া, জলের পাম্প চালানো সবই শিক্ষকদের করতে হচ্ছে। পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে সবরকম কাজ করতে হচ্ছে। চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দাবি, সবাইকে নিজেদের জায়গায় পুনর্বহাল করতে হবে। দ্রুত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে গোপালবেড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো আরও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার প্রভাব সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের উপর পড়বে।
মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জামালপুরের সেলিমাবাদ হাইস্কুলে চাকরিহারা দুই শিক্ষক এদিন স্কুলে আসেন। প্রধান শিক্ষক বাসুদেব সাঁতরা বলেন, দু’জন শিক্ষক চলে যাওয়ায় স্কুলে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে স্কুলে ফের নতুন করে দুই শিক্ষক মঙ্গলবার যোগ দেওয়ায় আমরা খুশি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ