Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দায় নিজের কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা খালিদের মুখে

জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েই আশার আলো দেখিয়েছিলেন খালিদ জামিল।

দায় নিজের কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা খালিদের মুখে
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েই আশার আলো দেখিয়েছিলেন খালিদ জামিল। কাফা নেশনস কাপে তাঁর প্রশিক্ষণে তৃতীয় স্থানে শেষ করে ভারত। তবে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে সেই প্রত্যাশার ফানুস চুপসে যায়। প্রথমে ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের কাছে হার। তারপর ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪৭ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ। এই জোড়া ব্যর্থতার সিংহভাগ দায় কোচ খালিদের। তাঁর অতি-রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দেশের সেরা ফুটবলারদের দলে না রাখায় সর্বত্র মুণ্ডপাত হয় মুম্বইকরের।

Advertisement

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ভারতীয় কোচ হিসেবে কলকাতায় প্রথমবার সাংবাদিক বৈঠক সারলেন খালিদ। দলের এই ব্যর্থতার যাবতীয় দায় নিজের কাঁধে নিলেন তিনি। বললেন, ‘বাংলাদেশের কাছে হার অবশ্যই বেদনার। তবে ছেলেদের প্রচেষ্টায় কোনও খামতি ছিল না। আমাদের হতাশ হলে চলবে না। সামনের দিকে তাকাতে হবে। উন্নতির জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মধ্যে অবশ্যই অন্যতম হল, বেশি করে জুনিয়র ফুটবলারদের তুলে আনা।’
বাংলাদেশের কাছে হারের পরই মোহন বাগানের ফুটবলারদের না ডাকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন খালিদ। এদিন এই প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, ‘আমার কাছে কোনও ক্লাব আলাদা নয়। সব সমান। মনে রাখবেন, আমি কিন্তু মোহন বাগানে কোচিং করিয়েছি। ওটা আমারও ক্লাব। বাংলাদেশ ম্যাচের আগে আমি বেশি সময় ফুটবলারদের দেখে নিতে চেয়েছিলাম। তাই আগেই সকলকে শিবিরে যোগ দিতে বলা হয়। তবে মোহন বাগান সেই সময় ফুটবলার ছাড়েনি। তাই ওই মূহূর্তে যারা ছিল, তাদেরকে নিয়েই দল গড়ি। তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই আবারও মোহন বাগানের ফুটবলাররা দেশের হয়ে খেলবে।’
চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে চলেছে ভারতীয় ফুটবল। দেশের শীর্ষ লিগ কবে শুরু হবে, কেউই জানেন না। অনেকেই মনে করছেন, ফুটবলাররা পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলার জন্যই ভুগতে হয়েছে জাতীয় দলকে। কোচ খালিদ অবশ্য তা মানতে নারাজ। তাঁর সংযোজন, ‘শুধুমাত্র আইএসএল বন্ধ বলে দলের এমন হাল হতে পারে না। ফুটবলাররা ম্যাচের মধ্যে থাকলেই ভালো। তবে বাংলাদেশ ম্যাচের আগে কিন্তু সুপার কাপ চলছিল। সেই টুর্নামেন্টের ভিত্তিতেই আমি দল বেছে নিয়েছি। আগামী দিনেও শুধুই আইএসএলই জাতীয় দলে খেলার মাপকাঠি হতে পারে না। অবশ্যই দেশের শীর্ষ লিগ সবসময় প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তবে আই লিগ, সন্তোষ ট্রফির মতো টুর্নামেন্টকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’ একইসঙ্গে আইএসএল প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘যত দ্রুত শুরু হবে ততই মঙ্গল। সকলে মিলে চেষ্টা করছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি একটা সমাধান বের হবে।’
দল ব্যর্থ হলে সবার আগে তোপে মুখে পড়েন কোচ। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে এটাই রীতি। বাংলাদেশ ম্যাচে পর খালিদ যখন সর্বত্র তুলোধনা হচ্ছেন, তখন ঠুঁটো জগন্নাথের মতো শুধুই দায় এড়িয়েছেন ফেডারেশন কর্তারা। এমনকী, কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রাক্তন ফুটবলরাররাও চুপ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকেও ভারতীয় ফুটবলের এই অবক্ষয়ের কারণ তুলে ধরতে ব্যর্থ সাব্বির আলি। এমনকী, কোন পথে দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তারও কোনও সদুত্তর ছিল না তাঁর কাছে। টিডি সুব্রত পাল ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিলেও টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কথাই বলতে পারলেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ