Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

ভারতের আঙ্করভাট খাজুরাহ

মধ্য ভারতে সাতনা রেলওয়ে স্টেশন বা শহর হিসাবে খুব বড় নয়। আজ শহরটি স্মার্ট সিটি হিসাবে পরিচিত হলেও বছর দশেক আগে এক সকালে যখন আমি সে শহরে গিয়ে নামি, তখন সে শহর প্রচণ্ড অপরিচ্ছন্ন ছিল।

ভারতের আঙ্করভাট খাজুরাহ
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০

হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

Advertisement

মধ্য ভারতে সাতনা রেলওয়ে স্টেশন বা শহর হিসাবে খুব বড় নয়। আজ শহরটি স্মার্ট সিটি হিসাবে পরিচিত হলেও বছর দশেক আগে এক সকালে যখন আমি সে শহরে গিয়ে নামি, তখন সে শহর প্রচণ্ড অপরিচ্ছন্ন ছিল। তবে এখন নাকি শহরটা সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে তোলা হয়েছে। সাতনা শহর থেকে ভারতবর্ষের শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পীঠস্থান মন্দির নগরী খাজুরাহের দূরত্ব সড়ক পথে একশো কুড়ি কিলোমিটার মতো। আমাদের যাত্রাপথের ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে পথের পাশেই পড়বে ‘পান্না টাইগার রিজার্ভ’।
যাত্রাকাল ছিল গ্রীষ্মকাল। মধ্য ভারত ভ্রমণের পক্ষে বিশেষ উপযুক্ত নয়। কারণ, এ সময় প্রচণ্ড গরম পড়ে মধ্য ভারতে। লু বয়। তবুও এ সময়ই হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে বসেছিলাম। সকাল ন’টা নাগাদ সাতনা পৌঁছে যখন প্ল্যাটফর্মের বাইরে বেরলাম তখন মধ্য ভারতের গ্রীষ্মকালের প্রখর সূর্য অগ্নিবর্ষণ শুরু করে দিয়েছে।
খাজুরাহ কীভাবে যাওয়া যায় সে ব্যাপারে খবর সংগ্রহ করা গেল দেহাতি দোকানদারের কাছ থেকে। প্রাইভেট গাড়ি আর বাস দুই-ই যায় খাজুরাহতে। ট্যাক্সিতে যেতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা মতো, আর বাসে আরও কিছু সময় বেশি। গাড়ি-বাস কোথায় গেলে পাওয়া যাবে সে পথও বাতলে দিল লোকটা।
ট্যাক্সি স্ট্যান্ড পায়ে হাঁটা পথ। আমি ও আমার ভ্রমণসঙ্গী দু’জন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম, আগে একবার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যাক, সেখানে সুবিধা না হলে তারপর না হয় আবার এখানে ফিরে এসে গাড়িতে রওনা হওয়া যাবে খাজুরাহের উদ্দেশে।
একটা চলতি অটো থামিয়ে আমরা রওনা হলাম বাস স্ট্যান্ডের দিকে। যাঁদের কলকাতার কলেজস্ট্রিট মোড় থেকে শিয়ালদহ স্টেশনে অটোরিকশতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বা অভ্যাস আছে তাঁরা জানেন যে, সামান্য ফাঁক গলে কী অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও দ্রুতগতিতে যাত্রীদের জীবনকে ‘জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ বানিয়ে চালকরা তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। সাতনার এই যান্ত্রিক তিন চাকার বাহন মনে হয় স্থলচর বাহনের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগামী বাহনের শিরোপা লাভ করতে পারে। বেশ কয়েক কিলোমিটার পথ পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সুপারসনিক জেটের গতিতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের পৌঁছে দিল বাসস্ট্যান্ডে। জায়গাটা বেশ জমজমাট। এ জায়গা থেকে মধ্য ভারতের নানা প্রত্যন্ত জায়গায় যাওয়ার জন্য বাস ছাড়ে। এখানে অধিকাংশই দেহাতি বা গ্রামীণ মানুষ। পুরুষদের পরনে হাঁটু পর্যন্ত ধুতি, গায়ে ফতুয়ার মতো জামা, মাথায় পাগড়ি। কারও কারও হাতে লাঠিও আছে। মহিলাদের পরনে শাড়ি। লম্বা ঘোমটা টানা, মুখ দেখা যায় না। কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত চুড়িতে আবৃত। কারও কোলে-কাঁধে শিশু, সঙ্গে নানা লটবহর। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকের পায়েই চটি নেই। ধুলো মাখা ফাটা গোড়ালি দেখে বোঝা যায় এঁরা সব শ্রমজীবী মানুষ। খেত খামারে কাজ করেন সম্ভবত।
বেশ কিছু লাক্সারি বাস আছে, কিন্তু তারা খাজুরাহের দিকে যাবে না পর্যাপ্ত সংখ্যক পর্যটক নেই বলে। অগত্যা খাজুরাহগামী একটা সাধারণ রুটের বাসেই উঠে বসলাম। সাড়ে দশটায়, অর্থাৎ আধ ঘণ্টা পর সে বাস ছাড়বে। ভাড়া বেশ কম। তাই এরপর সাধারণ গ্রামীণ মানুষরাও উঠতে শুরু করল বাসে। শুধু মানুষই নয়, তাদের সঙ্গে উঠতে শুরু করল মুরগি ভর্তি খাঁচা, এমনকী এক জোড়া হৃষ্টপুষ্ট ছাগলও তুলে ফেলা হল বাসের মধ্যে। বাসের ছাদও যখন লোকজন মালপত্রে ভরে গেল, তখন চলতে শুরু করল বাস। লোকজনের কথাবার্তা, মাঝে মাঝে মোরগের কোঁকোড়কো ডাক, ছাগলের ব্যা-ব্যা ধ্বনি— সব মিলিয়ে বাস যাত্রার এ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। তবে আমাদের সৌভাগ্য, আগে বাসে ওঠার কারণে জানলার পাশে বসার আসন পেয়েছি। অধিকাংশ যাত্রীই বাসের মেঝেতে বসে যাচ্ছেন।
সাতনা শহর ত্যাগ করে হাইওয়ে ধরল বাস। পথের দু’পাশে কোথাও ফাঁকা মাঠ, আবার কোথাও ফাঁকা জমি। কোথাও কোথাও স্থানীয় মানুষদের ছোট গ্রাম বা মহল্লা। ছিরিছাঁদহীন ঘর-বাড়ি। আমরা যে পথ ধরে এগচ্ছি সে জায়গা হাজার বছর আগে চান্দেল রাজবংশের রাজত্বের অন্তর্গত ছিল। অনুচ্চ পাহাড়, নদী আর জঙ্গল বেষ্টিত মধ্য ভারতের এ অংশ বহিঃশত্রুর কাছে দুর্ভেদ্য ছিল। একসময় এ অঞ্চল বুন্দেলখণ্ডেরও অংশ ছিল। সে রাজ্যের বিখ্যাত নৃপতি ছিলেন রাজা ছত্রশাল। যিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। কেউ কেউ বলেন রাজা ছত্রশাল একসময় জাহাঙ্গিরের সঙ্গে গোপন আঁতাঁত করে এই অঞ্চলেই আকবর পার্ষদ আবুল ফজলকে হত্যা করেছিলেন। তখন এ অঞ্চল ঘন জঙ্গলপূর্ণ ও ডাকাতদের বাসস্থান ছিল। রাজা ছত্রশালের তৈরি এক ভগ্নপ্রায় দুর্গ ছাড়া অবশ্য তাঁর তৈরি কোনও চিহ্ন এখন আর নেই। মন্দির নগরী খাজুরাহ নির্মিত হয়েছিল ছত্রশালের রাজত্বরও পাঁচ-ছ’শো বছর আগে। থামতে থামতে চলার পর একসময় বাস পৌঁছে গেল পান্নাতে। এই যাত্রা পথে খাজুরাহের আগে এটাই মোটামুটি শেষ জনপদ। এ জায়গাতে এসে বাস অর্ধেক খালি হয়ে গেল। এরপর শহর ছাড়তেই শুরু হল রাস্তার পাশে ঘন জঙ্গল। পান্না টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট। তার একপাশ দিয়ে নির্জন দুপুরে বয়ে চলেছে কেন নদী। রাস্তার পাশে বসে রয়েছে বাঁদরের দল। এ পথ বেশ নির্জন আর মনোরম। আরও ঘণ্টা দুই সময় অতিক্রম করার পর চোখে পড়ল সাইন বোর্ড ‘ওয়েলকাম টু খাজুরাহ’। আর এরপরই বাসের জানলা দিয়ে চোখে পড়ল এক প্রাচীন মন্দিরের। মন্দির নগরী খাজুরাহতে বাস আমাদের নামিয়ে দিল।
মূল মন্দির কমপ্লেক্সের বাইরে ছোট শহর। সেখানেই রয়েছে ছোট-বড় হোটেল, রিসর্ট, রেস্তরাঁ। রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে টাঙ্গা। তখন শহরটা যে খুব বেশি গোছালো ছিল তা নয়। তবে কয়েক বছর আগে গিয়ে দেখেছি শহরটা ঝাঁ-চকচকে আধুনিক শহরের রূপ নিয়েছে। দু’রাত্রি বাস করার মতো একটা মধ্যম মানের হোটেল পেয়ে গেলাম আমরা। কিছু সময়ের মধ্যেই ফ্রেশ হয়ে বাইরে বেরিয়ে আমরা মন্দির কমপ্লেক্সের দিকে রওনা হলাম। তবে আমরা পরদিন মন্দির দেখব। তাছাড়া সূর্য ঢলতে শুরু করেছে। মন্দির চত্বর বন্ধ হওয়ারও সময় হয়ে গিয়েছে। পদব্রজে আমরা সেদিকে এগলাম ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো’ দেখব বলে। আমরা পৌঁছে গেলাম খাজুরাহের বিখ্যাত কাণ্ডারীয় মহাদেব মন্দিরের কাছে। শেষ বিকালের আলো এসে পড়েছে বিশাল সেই মন্দিরের গায়ে। সোনার তৈরি মনে হচ্ছে মন্দিরটাকে। হাজার বছরের প্রাচীন এই মন্দির ঝড়-বাদল অতিক্রম করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। এমন কত সূর্যাস্ত সে দেখেছে। ভাবতেই অবাক লাগে। পর্যটক এ সময় নেই বললেই চলে। তাই শো-এর টিকিট পেতে সমস্যা হল না। পশ্চিম অংশের যে মন্দিরগুলো আছে তারই এক অংশে আলো-ধ্বনির মাধ্যমে খাজুরাহের ইতিহাস জানার ব্যবস্থা। সে জায়গার চারপাশে কাছে দূরে নানা মন্দিরশীর্ষ শেষ বেলার আলোতে জেগে আছে। তার মধ্যে যে মন্দিরের শীর্ষদেশ সবচেয়ে বড় সেটা লক্ষ্মী মন্দির। এই মন্দির নগরীতে যেমন হিন্দু মন্দির আছে, তেমনই জৈন মন্দিরও আছে। তাদের অবস্থান অবশ্য অন্য দিকে। শুরু হল শো, নানা বর্ণের আলোকচ্ছটায় রঞ্জিত হয়ে উঠল মন্দিরের শীর্ষদেশগুলো। কানে বাজতে শুরু করল ভরাট কণ্ঠে মন্দির নগরীর ইতিহাস। খাজুরাহের মন্দিরগুলো নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টীয় নবম ও দশম শতাব্দীতে চান্দেল রাজবংশের শাসনকালে। সে সময় এই স্থানের নাম ছিল ‘খাজুরবাহক’। যার থেকে খাজুরাহ নামের উৎপত্তি। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বুন্দেলখণ্ড বা মধ্য ভারতে ইসলাম শাসনকালে মন্দির নগরী পরিত্যক্ত হয়ে যায়। গভীর জঙ্গল গ্রাস করে নেয় এই নগরীকে। পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর আঠেরোশো সালে ব্রিটিশ সার্ভেয়ার বার্ট এই নগরী পুনরাবিষ্কার করেন। চান্দেল রাজত্বে যখন স্বর্ণযুগ ছিল সে সময় এই ভূখণ্ডে আগত বিখ্যাত পর্যটক ইবন বতুতার রচনাতেও এই মন্দির নগরীর উল্লেখ আছে। এ নগরীতে আশিটির মতো মন্দিরের কাঠামোর সন্ধান মিলেছে। যার মধ্যে কুড়িটির মতো মন্দির বর্তমানে অক্ষত আছে। ছয় বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে মন্দিরগুলোর অবস্থান। প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড দেখার পর মোটামুটি তৃপ্ত হয়েই হোটেলে ফিরে এলাম।
পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে একটা অটোরিকশ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম মন্দির নগরী ঘুরে দেখব বলে। অটো আমাদের নিয়ে প্রথমে উপস্থিত হল কাণ্ডারীয় মহাদেব মন্দিরের সামনে। এ জায়গা থেকেই মন্দির কমপ্লেক্সে বিভিন্ন মন্দিরে ঢোকার টিকিট একসঙ্গে দেওয়া হয়। টিকিট কেটে আমরা প্রবেশ করলাম খাজুরাহের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ, ইউনেস্ক হেরিটেজ সাইটের অন্তর্গত কাণ্ডারীয় মহাদেব মন্দিরে। সকালের আলো গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকৃতির এই মন্দির। ঐতিহাসিকদের বিবরণ ও লোককথন অনুযায়ী চান্দেলরাজ বিদ্যাধর গজনীর সুলতান মামুদের আক্রমণ প্রতিহত করার পর মহাদেবের উদ্দেশে এই অপূর্ব শিল্প সুষমা ও অলঙ্করণ যুক্ত মন্দির নির্মাণ করান। সিঁড়ি বেয়ে উঁচু বেদীর ওপর উঠে ঘুরে ঘুরে দেখতে হয় বিশাল আকৃতির মন্দির। এ মন্দির দেহলি ও মিনারের সংমিশ্রণে তৈরি। যা গিয়ে মিলিত হয়েছে একটি শিখরে। মন্দির শৃঙ্গটি মেরু পর্বতের শিখরের আকারে গঠিত। মহাকাল, ঝড়-রৌদ্র মন্দিরের কিছু স্থানে থাবা বসালেও এখনও মন্দিরের বহিঃগাত্রে, স্তম্ভে, শিখরদেশের তাকগুলোতে চান্দেলদের অপূর্ব শিল্পকীর্তিগুলো আজও বর্তমান। কোনারকের মতোই এ মন্দিরও ইরোটিক ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত। ভারতের যে মন্দিরগুলিতে ইরোটিক ভাস্কর্য দেখা যায় তার মধ্যে কাণ্ডারীয় মহাদেব মন্দিরই সর্বশ্রেষ্ঠ। তবে এই ভাস্কর্য কোনও জাগতিক কামনার সৃষ্টি করে না, শুধু মুগ্ধ হতে হয় প্রাচীন শিল্পীদের অসাধারণ শিল্প নৈপুণ্য দেখে। সহস্র বছর পরও তারা যেন একইরকম জীবন্ত। মন্দির গাত্রে খোদিত এ ধরনের ভাস্কর্য রচনার পিছনে দু’ধরনের মত প্রচলিত আছে। প্রথমটি হল সে সময়ের প্রচলিত ভাবনা ছিল মন্দির গাত্রে এ ধরনের ভাস্কর্য রচিত হলে মন্দিরে বজ্রপাত হয় না। আর দ্বিতীয় বক্তব্য হল, মানব জীবনের প্রধানতম মৃত্যু তুলে ধরা হয়েছে মন্দির গাত্রের ভাস্কর্যে। মন্দির সংলগ্ন চত্বরে আরও দু’টি ছোট মন্দির আছে। তার মধ্যে একটিতে কষ্টি পাথরের তৈরি বিশালাকৃতির একটি বরাহ মূর্তি আছে। কাণ্ডারীয় মহাদেব মন্দির ঘণ্টাখানেক সময় নিয়ে দেখার পর আমরা রওনা হলাম অন্য মন্দিরগুলো দেখব বলে।
এরপর একে একে দেখতে শুরু করলাম খাজুরাহের পশ্চিম অংশের অন্য মন্দিরগুলো। লক্ষ্মণ মন্দির, চিত্রগুপ্ত মন্দির,  বিশ্বনাথ মন্দির, দেবী জগদম্বা মন্দির। এসব দেখতে দুপুর হয়ে গেল। পথের পাশেই এক ধাবাতে খাওয়া সেরে এরপর যাত্রা শুরু খাজুরাহের পূর্বাঞ্চলীয় মন্দিরগুলো দেখার জন্য। এ অংশর মন্দিরগুলোর মধ্যে জৈন মন্দিরগুলোই প্রধান। আমাদের প্রথম গন্তব্য আদিনাথ মন্দির। গর্ভগৃহে শোভা পাচ্ছে ব্যাসল্ট পাথরের তৈরি আদিনাথের মূর্তি। এর পর উপস্থিত হলাম মন্দির নগরীর পশ্চিম অংশে সর্ববৃহৎ মন্দির পার্শ্বনাথের মন্দিরে। এই মন্দির গাত্রেও তীর্থঙ্করের মূর্তির পাশাপাশি হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি আছে। এই মন্দিরে একটি সংখ্যাতত্ত্বের শিলালিপি রয়েছে যাকে ‘জাদুকরী শিলালিপি’ বলে। সবশেষে আমরা গিয়ে উপস্থিত হলাম শান্তিনাথ মন্দিরে। খাজুরাহের অন্য হিন্দু বা জৈন মন্দিরগুলো বর্তমানে পুজো বা উপাসনার কাজে ব্যবহৃত না হলেও এ মন্দিরে কিন্তু আজও উপসনা হয়। শান্তিনাথ মন্দির দর্শন করে যখন বাইরে বেরিয়ে এলাম তখন কাছে দূরের মন্দির শীর্ষগুলো রাঙা হয়ে উঠেছে শেষ বিকালের আলোয়। 

সম্পর্কিত সংবাদ