খাঁ খাঁ লেটার বক্স, শ্রী শ্রী দুর্গা সহায় লেখা চিঠি আর আসে না বিজয়ায়
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: লাল কালিতে লেখা, ‘শ্রী শ্রী দুর্গা সহায়...’

Advertisement

বিজয়ার পর এরকম একটা চিঠি এলে বোঝা যেত প্রিয় মানুষটি দূরে থাকলেও পরিবারের পাশে আছেন। সকলের মঙ্গলসংবাদ জানতে চেয়ে বিজয়ার চিঠি লিখেছেন দূর দেশ থেকে। সে চিঠিতে এটাও জানিয়েছেন, তিনিও কুশলে আছেন। বুকের ভার হালকা করত লাল কালিতে লেখা বিজয়ার দুর্গা সহায় চিঠি। এখন মোবাইলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় কথা হয়, মেসেজ হয়। শরীর-মনের খবর প্রতিনিয়তই আদানপ্রদান হয়। তবে চিঠি আর আসে না। হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টা-মেসেঞ্জারে শব্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু প্রিয় মানুষটির হাতের লেখার চেনা অক্ষর-সমষ্টি বিজয়ায় এসে পৌঁছে আশ্বস্ত করে না মনকে। হেলাল হাফিজের মতো কেউ আর লেখেন না, ‘এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো...’ 
ডাকঘরে একা পড়ে থাকে লাল টকটকে ডাক বাক্স। নীল রঙের ইনল্যান্ড লেটার, হলুদ পোস্টকার্ড, সাদা খাম একা থাকে নির্জনে। পত্র দিয়ো কেউ লেখে না। বিজয়ার সেই দুর্গা সহায় চিঠি শুধুই স্মৃতিমেদুর করে। অধিকাংশ বাড়ির লেটার বক্সে ধুলো জমে। জম্মে খোলা হয় না। পড়ে থাকে ভাঙা হয়ে। দুর্গা চলে গেলে হয়ত কেউ অভ্যাসে মুছে রাখেন চিঠির বাক্স। তবে দুর্গা সহায় চিঠি এসে পৌঁছয় না বিজয়ায়। মিউজিয়ামে রাখা ডাইনোসরের পাঁজরের মতো বহুকাল আগে লেখা কিছু চিঠি পড়ে থাকে আলমারির কোনে। ‘জঞ্জাল জমিয়ে রেখে নোংরা করার মানে কি?’ হুমকি আসে মাঝেমধ্যেই। তবে ফেলতে মন চায় না। বিজয়ার চিঠি যেন সেই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। যা আলমারিতে থাকলে নিশ্চিন্ত। না হলে যেন মনে হয় শিকড় কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে পূর্বপুরুষদের থেকে। 
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডঃ প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘একসময় বাড়ির লেটার বক্সে কম করে গোটা পাঁচেক বিজয়ার চিঠি আসত। সে চিঠিতে কত স্মৃতি। পড়ার জন্য বাড়ির লোকজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি। এখন সারাবছরে একটা চিঠিও লেটার বক্সে এসে পড়ে না।’ স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ বলেন, ‘বিজয়ার ‘দুর্গা সহায়..’ চিঠিতে আবেগ ছিল। এখন ভক্তরা বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে।’ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা কৃষ্ণচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘বাড়ির বড়োদের কথায় ডাকঘর থেকে একগাদা পোস্ট কার্ড কিনে নিয়ে আসতাম। লাল পেন দিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর রেওয়াজ ছিল। আজ সব বন্ধ। সে সমস্ত চিঠি মিস করি।’ অবসরপ্রাপ্ত বিচারক সুহাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বহু বিশিষ্ট মানুষের চিঠি নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। চিঠির মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে অনেক না জানা কাহিনি। তাই চিঠির গুরুত্ব অসীম। আর বিজয়ার চিঠি তো একটা সময় আমাদের কাছে ছিল পরম পাওয়া। তবে প্রযুক্তির দৌলতে আজ তথ্য আদানপ্রদান দ্রুত হয়। সেটিকেও আমরা অস্বীকার করতে পারি না।’