নয়াদিল্লি: ‘অ্যায় খুন কে পেয়াসে বাত সুনো...’! সোশ্যাল মিডিয়ায় কবিতা পোস্ট করেছিলেন কংগ্রেস এমপি ইমরান প্রতাপগঢ়ি। সেই অপরাধেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে গুজরাত পুলিস। অভিযোগ একটাই, হিংসায় উস্কানি দিচ্ছেন কংগ্রেস সাংসদ। গত জানুয়রি মাসে গুজরাত হাইকোর্টও সেই এফআইআর খারিজ করতে চায়নি। সেই মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যের পুলিসকে। সোমবার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি এ এস ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, ৭৫ বছর হয়ে গেল স্বাধীন ভারতের সংবিধানের। এখন তো অন্তত বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার মর্ম বুঝতে হবে পুলিসকে। বিচারপতি ওরা তো সাফ বলেন, ‘সমস্যা হল এখন সৃজনশীলতার প্রতি কেউই আর শ্রদ্ধাশীল নন। যদি আপনি কবিতাটি পড়েন, বুঝতে পারবেন এখানে অন্যায়কেও ভালোবেসে সহ্য করতে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে হিংসার কোনও সংযোগ নেই।’
Advertisement
মামলায় গুজরাত সরকারের পক্ষ থেকে হাজির ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি সওয়ালে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া দিনে দিনে ভয়ঙ্কর একটি অস্ত্র হয়ে উঠছে। মানুষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। তার জবাবে আদালত আরও ভর্ৎসনা করে পুলিসকে। দুই বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানায়, কবিতার অর্থ বোঝার তো চেষ্টা অন্তত করা যেত। তা করা হয়নি বলেই আদালত উদ্বিগ্ন। যদিও সলিসিটর জেনারেল তখনও দাবি করেন, তিনি কংগ্রেস এমপির পোস্ট করা লাইনগুলিকে কবিতা বলে মানেন না। গত শুনানিতে এই মামলায় স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। এদিনও শীর্ষ আদালত গোটা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে।



