নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: দোলে কোচবিহারের বাজার মাতাচ্ছে কেজিএফ-রকিভাই হাতোড়া, পুষ্পা-২ কুলাড়ি ও বাহুবলী তরোয়াল পিচকারি। শুধু তাই নয়, দাবাং চশমাও বিক্রি হচ্ছে দেদার। আবার শাহরুখ চুল, বার্বি চুলের চাহিদাও তুঙ্গে। রং খেলার দিনগুলিতে এই পরচুলা পরে অনেকেই নিজের লুক একটু বদলে নিতে চাইছেন। তাই ইয়ং জেনারেশনের কাছে এসব এখন হটকেক। এসবের দামও কিন্তু সাধ্যের মধ্যে। সব মিলিয়ে বাঙালির বসন্তেও যেন লেগেছে পশ্চিমী সংস্কৃতির ছোঁয়া।
কী নামে, কী ব্র্যান্ডে- এই সব সামগ্রীর অধিকাংশই এসেছে দিল্লি থেকে। ফিল্মি নাম, কায়দা, বলিউডি হিন্দি সিনেমার নায়ক বা দক্ষিণী সিনেমার স্টাইল বাঙালির চিরায়ত রঙিন দোল উৎসবেও ছায়া ফেলতে শুরু করেছে। এসবের সঙ্গে থাকছে ভেষজ আবিরও। কিন্তু দোল মানেই যে আভা আবিরে বন্ধু-বান্ধবী থেকে শুরু করে বাড়ির গুরুজন বা দেবতার পা রাঙিয়ে দেওয়া-সেই চিরকালীনতা যেন ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে!
কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারের ডালপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী সুশীলকুমার গুপ্তা বলেন, এবার দিল্লি থেকে অধিকাংশ সামগ্রী এসেছে। এর মধ্যে কেজিএফ-রকিভাই হাতোড়া পিচকারি, পুষ্পা-২ কুলাড়ি পিচকারি, বাহুবলী তরোয়াল পিচকারির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একই ভাবে দাবাং চশমা, শাহরুখ চুল, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভেষজ আবিরের চাহিদা রয়েছে।
একটা সময় ছিল যখন দোলের দিন আবিরের প্যাকেট নিয়ে সকাল থেকে রং খেলায় মেতে উঠত আম বাঙালি। এটা খুব পুরনো দিনের কথা নয়। সাতের দশকেও এই ছবি স্বাভাবিক ছিল। আটের দশকের শুরুতেই হিন্দি সিনেমা ‘সিলসিলা’র দৌলতে ‘রং বরসে/ ভিগে চুনারওয়ালি/রং বরসে’ গান বাঙালির দোলে জায়গা করে নিয়েছিল। গোটা আট বা নয়ের দশকে বাঙালির দোল ধীরে ধীরে হোলিতে রূপান্তরের চেষ্টা করেছে। আবিরের পাশাপাশি খুনি রঙে একে অপরকে রাঙিয়ে দেওয়ার দৃশ্য সাবলীল হয়ে উঠেছিল।
গত দুই দশক ধরে ধীরে ধীরে বাঙালির পাড়ায় পাড়ায় বসন্ত উৎসবের ঝোঁক বেড়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এবার দোলের আগে কোচবিহারের বাজার মেতেছে পুষ্পা-২ এর কুলাড়ির আদলে পিচকারি বা কেজিএফ-এর রকিভাইয়ের হাতোড়ার আদলে তৈরি পিচকারি। আছে বাঁশরি পিচকারি। দাম ২৫০-২০০ টাকা। নিজস্ব চিত্র।