Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরেও দেখা নেই কেশিয়াড়ির বিধায়কের, ক্ষোভ

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরেও দেখা নেই কেশিয়াড়ির বিধায়কের, ক্ষোভ
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: চারদিনের ব্যবধানে শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দু’দফায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেশিয়াড়ি ও দাঁতন বিধানসভার বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিরা। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ধান সহ অন্যান্য ফসলের। তবে, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কেশিয়াড়ির বিধায়ককে পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ ক্ষতিগ্রস্তদের। যদিও বিধায়ক পরেশ মুর্মুর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার জায়গায় প্রশাসনিকভাবে কী করে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পায় তার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এদিকে পাশের বিধানসভা দাঁতনে দেখা গেল উল্টো চিত্র।

Advertisement

গত ১৭ ও ২১ মার্চ ক্ষণিকের ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টি আছড়ে পড়েছিল কেশিয়াড়ি, দাঁতন-১, দাঁতন-২, মোহনপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বেশিরভাগ এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে ধান, পান, সব্জির চাষ। কেশিয়াড়ি ব্লকের দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশাপাশি দাঁতন-১ ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৮টি মৌজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমস্যায় পড়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে কেশিয়াড়ির বিধায়ক পরেশ মুর্মুর বিরুদ্ধে এলাকায় না যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজন। খাজরা ও ঘৃতগ্রাম অঞ্চলের গিলাগেড়িয়া, বড়ামারা, নিধাতা, নয়াগ্রাম প্রভৃতি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ ঝড়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিধায়ককে একদিনের জন্য পাইনি। আসেননি কোনও প্রশাসনিক আধিকারিক। গৌতম পাত্র, অমরেশ ঘোষ বলেন, টানা তিনদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলাম। পর্যাপ্ত পানীয় জল পর্যন্ত পাইনি। ভোট দিয়ে যাকে জেতালাম আমাদের কষ্টের সময় তাঁকে একবারও দেখতে পেলাম না। এক বাসিন্দা রমাকান্ত দাস বলেন, ঝড়ের পর থেকে অনেকবার বিধায়ককে ফোন করেছি, তিনি আসেননি। বরং পাশের দাঁতন বিধানসভার বিধায়ক বিক্রম প্রধান কৃষি দপ্তরের আধিকারিক ও বীমা কোম্পানির লোকজনকে আমাদের এলাকা ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন।
যা নিয়ে বিধায়ক পরেশ মুর্মু বলেন, শুধু এলাকায় ঘুরলে সমস্যা সমাধান হয় না। প্রশাসনিক অধিকারিক ও বিমা কোম্পানির লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়। আর তা নিয়ে আমি ব্যস্ত ছিলাম। ঝড়ের পরের দিন একবার দাঁতন গিয়েছিলাম। এলাকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। কে কী বলল তা নিয়ে কিছু ভাবি না। আমি আমার কাজ করেছি। যদিও এই বিতর্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন পাশের বিধানসভা দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান। তিনি বলেন, ঝড়ের খবর আসার পর থেকে এলাকায় পড়ে রয়েছি। এলাকাবাসীরা যাতে সঠিক সময়ে ক্ষতিপূরণ পান সেজন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বেশিরভাগ এলাকায় ঘুরেছি। আজ বিমা কোম্পানির লোকজনকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখিয়েছি। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ