কোন কৌশলে এয়ার কন্ডিশনার ছাড়াও ঘর ঠান্ডা থাকবে, রইল তার টিপস।
কোন কৌশলে এয়ার কন্ডিশনার ছাড়াও ঘর ঠান্ডা থাকবে, রইল তার টিপস।
তীব্র গরমে কাহিল শহরবাসী। ব্যাগে ছাতা, স্কার্ফ, ওআরএস এখন সর্বক্ষণের সঙ্গী। বাড়ির ভিতরের তাপমাত্রাও কম নয়। আজকের দিনে অনেকেরই বাড়িতে এসি রয়েছে। কিন্তু যাঁদের ঘরে এসি নেই, গ্রীষ্মে তাঁদের কষ্টে দিন কাটে। প্রতিনিয়তই তাঁরা ভেবে চলেছেন যে, এই গরমে এসি ছাড়াও ঘর ঠান্ডা রাখবেন কীভাবে? আজ রইল এই সমস্যারই বেশ কিছু সহজ সমাধান। ঘরোয়া কিছু উপায় মেনে চললে এই তীব্র গরমের জ্বালা থেকে নিস্তার মিলবে।
প্রথমত, গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে ঘরে মোটা পর্দার ব্যবহার করুন। তবে গাঢ় রঙের পর্দা নয়। হালকা রঙের মোটা পর্দা সবচেয়ে ভালো।
দ্বিতীয়ত, একদম ভোরের দিকে বাইরের বাতাস যতক্ষণ ঠান্ডা থাকে, জানালা খুলে দিন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে দুপুরের পর সব জানলা ও দরজা শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং ভারী পর্দা টেনে দিন। এতে বাইরের গরম বাতাস ও রোদ ঘরে ঢুকতে পারবে না। বাইরে রোদের হলকা ঘরে কম প্রবেশ করবে এবং ঘর থাকবে ঠান্ডা।
তৃতীয়ত, যাঁদের বাড়িতে এসি নেই তাঁরা টেবিল ফ্যান বা ছোটো কোনো ফ্যান নিঃসন্দেহে ব্যবহার করতে পারেন। একতলা বাড়ি হলে ঘরের উপরের ছাদ সারাদিনের রোদের তাপে গরম হয়ে থাকে। এরপর সিলিং ফ্যান চালালে উপরের তাপ সিলিং ফ্যানের হাওয়ার সঙ্গে গোটা ঘরে নামতে থাকে। যার ফলে ঘর আরও গরম মনে হয়। শুধু তাই নয়, সেই সময়ে ঘরে থাকলে গরমে কষ্ট হয়, সেক্ষেত্রে টেবিল ফ্যান তুলনায় আরামদায়ক। এই ক্ষেত্রে আরও একটা উপায় ভীষণ কার্যকরী হতে পারে। কোনো ঠান্ডা জলের বাটি বা বরফ জলের বাটি টেবিল ফ্যানের সামনে রেখে দিতে পারেন। ফ্যানের বাতাস যখন বরফ বা ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে আসে, তখন এটি তাপমাত্রাকে দ্রুত কমিয়ে ঠান্ডা ও আরামদায়ক হাওয়া তৈরি করে। যা এই গরমে আরামদায়ক হবে।
চতুর্থ উপায়, আলো কমিয়ে দেওয়া। জোরালো আলো, বেশি পাওয়ারের আলো ইত্যাদির ব্যবহারে গরম বাড়ে। তাই ভীষণ গরমে ঘরের আলোর পাওয়ার কমিয়ে দিন। ডিম লাইট ব্যবহার করুন।
এখন এমন অনেক লাইট আছে যা রেগুলেটরের সাহায্যে কমানো বা বাড়ানো যায়। সেই ধরনের আলো ব্যবহার করুন। প্রয়োজন হলে আলো বাড়িয়ে নিতে পারবেন, আবার অপ্রয়োজনে তা কম রেখে ঘর ঠান্ডা রাখা যাবে।
এই চারটি পন্থা অনুসরণ করলেই ঘর ঠান্ডা রাখা সহজ। এছাড়াও, এই গরমে সবসময় হালকা সুতির জামা পরার চেষ্টা করুন। হালকা রঙের সুতির জামা এই গরমের জন্য একেবারে আদর্শ। এছাড়া, ঘরের বিছানায় হালকা রঙের সুতির পাতলা চাদর পাতুন। খেস বা জুটের পর্দাও গরমে ভালো।
সবশেষে, যেটি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল, নিজের শরীর ঠান্ডা রাখা। হালকা খাবার খান এবং বাড়ির বাইরে বেরলে সর্বদা ছাতা এবং জলের বোতল সঙ্গে রাখুন। তবেই এই হাঁসফাঁস করা গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।
কথিকা পাল