Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

কাদের কদর?

কাদের কদর?
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
বছর দুয়েক আগে দিল্লি পুরসভায় ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে উঠে এসেছিল তাঁর নাম। এই নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও রয়েছে। সেই রেখা গুপ্তাকেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার রামলীলা ময়দানে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের উপস্থিতিতে তাঁর শপথ গ্রহণের আগে একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দিল্লি পুরসভার ভোটাভুটিতে কারচুপির অভিযোগ তুলে দলীয় কাউন্সিলারদের নিয়ে ধাক্কা মেরে পোডিয়াম ফেলে দিচ্ছেন রেখা। উপড়ে দিচ্ছেন মাইক্রোফোন (যদিও ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে শেষ পর্যন্ত সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ এই নেত্রীর ভাগ্যেই শিকে ছিঁড়ল। অথচ আপ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে (প্রাক্তন) হারিয়ে শিরোনামে উঠে আসা পরবেশ ভার্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জোরালো দাবিদার ছিলেন। গেরুয়া শিবিরের অধিকাংশের ধারণা ছিল তেমনই। কিন্তু গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ধামাচাপা দিতে, তার চেয়েও বেশি ‘জো হুজুর’ একজনকে তখতে বসাতেই নাকি রেখা গুপ্তাকে বেছে নেন মোদি-শাহ জুটি। আসলে গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, এটাই মোদি-শাহ জুটির মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন একজনকে সরকারের মাথায় বসাও, যার উপর কোনও ‘আলো’ নেই। কেতাবি ভাষায় ‘ডার্ক হর্স’। এই অঙ্কে ছত্তিশগড়ে রমন সিংয়ের জায়গায় বিষ্ণুদেও সাই, রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার জায়গায় ভজনলাল শর্মা, মধ্যপ্রদেশে শিবরাজ সিং চৌহানের জায়গায় মোহন যাদব দৌড়ে না থেকেও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এই অঙ্কেই দিল্লি বিধানসভায় প্রথমবার পা রাখা রেখা মুখ্যমন্ত্রী হলেন পরবেশ ভার্মার পাল্লা ভারী থাকা সত্ত্বেও। তিনি হলেন মোদি জমানায় বিজেপি মনোনীত প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী।
Advertisement
৭০ আসনের দিল্লি বিধানসভায় ৪৮ জন বিধায়ক নিয়ে সাতাশ বছর পর ক্ষমতায় এল বিজেপি। নিয়ম মতো মন্ত্রিসভা হতে হবে সর্বোচ্চ সাত জনের। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া বাকি ছ’জনও একইসঙ্গে শপথ নেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রেখা গুপ্তাকে বেছে নেওয়া যদি বিজেপি’র প্রথম ‘চমক’ হয় তবে গোটা মন্ত্রিসভা নিয়েই আরও বড় ‘চমক’ রয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) যে তথ্য সামনে এনেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভায় যে সাত জন শপথ নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের (৭১ শতাংশ) বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এঁদেরই একজন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। অভিযুক্তের তালিকায় দ্বিতীয় নাম কপিল মিশ্র। ২০২০ সালে দিল্লিতে দাঙ্গার আগে সিএএ বিরোধী আন্দোলন ভাঙতে এই কপিল মিশ্রই হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ‘দেশ কা গদ্দারো কো গোলি মারো শালে কো’। এমন একজন ‘রত্ন’ রেখার মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন! আরও একজন পরবেশ ভার্মা। তাঁর বিরুদ্ধে কুকথা বলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মামলাও চলছে। তিনি উপ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আরেকজন আশিস সুদ। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব কোনও মনগড়া কথা নয়। অভিযুক্ত পাঁচজন তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে পেশ করা হলফনামায়। শুধু অভিযোগই নয়, নতুন মন্ত্রীদের সম্পত্তির পরিমাণও বেশ চোখ ধাঁধানো। যেমন, নতুন শিল্পমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা-র সম্পত্তির পরিমাণ ২৪৮ কোটি টাকা! পরবেশ ভার্মার ১১৩ কোটি টাকা। তুলনায় ‘গরিব’ মুখ্যমন্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ ৫.৫ কোটি টাকা। সাতজন মন্ত্রীর মিলিত গড় সম্পদের পরিমাণ ৫৬.৩ কোটি টাকা।
সদ্য গঠিত দিল্লি মন্ত্রিসভার এই ছবি অবশ্য ব্যতিক্রম নয়। এবং বলা যায় কেন্দ্রের মোদি মন্ত্রিসভাই এর পথপ্রদর্শক। ২০২৪-এর ৯ জুন শপথ নেওয়া তৃতীয় মোদি মন্ত্রিসভার সদস্যদের পেশ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে এডিআর দেখেছে, ২৮ জন মন্ত্রী রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে। এঁদের মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, মহিলা নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। মোট ৭১ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৯৯ শতাংশই ক্রোড়পতি। মন্ত্রীদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ১০৭.২৪ কোটি টাকা। দেশের মানুষের ভোট দেওয়ার আগে বোধহয় এসব তথ্য জেনে নেওয়ার দরকার আছে। আসলে আম জনতা অনেক সময় জানতেও পারে না রাজ্য কিংবা দেশ শাসনের দায়িত্ব যাঁদের উপর ন্যস্ত করা হচ্ছে তাঁদের কারও কারও পরিচয় আসলে কী!
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ