সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: বিকল হয়ে গিয়েছিল একটি কিডনি। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শুরু হয়। কষ্ট সহ্য করেও চলছিল জীবন সংগ্রাম। হঠাৎই সেই লড়াই থেমে গেল। সোমবার সকালে বোলপুরের কালিকাপুরের বাড়িতে গলায় ওড়না জড়িয়ে আত্মঘাতী হলেন গৃহবধূ। দেবীকা বৈরাগ্য (২৪) নামে ওই গৃহবধূ রবিবার রাতে স্বামীকে পছন্দের খাবার চিলিচিকেন এবং আলুর পরোটা আনতে বলেন। তা খাওয়ার পরই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
Advertisement
২০১৮ সালে নানুরের বালিগুনি গ্রামের দেবীকার সঙ্গে বিয়ে হয় বোলপুরের নয়ন দাস বৈরাগ্যর। তাদের পাঁচ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দেবীকার বাম দিকের কিডনি ছিল না। সে কারণে কয়েক বছর ধরেই প্রচণ্ড শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। শনিবার তাঁর ডান দিকের কিডনিতে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। বিষয়টি স্বামীকে জানান। রবিবার রাতে বাড়িতে রান্না করবে না বলে জানান। স্বামীকে বাইরে থেকে পছন্দের খাবার আনতে বলেন। মৃত্যুর আগে কাউকে পছন্দের খাবার খাওয়ানো উচিত কি না তা স্বামীর কাছে জানতে চান। হঠাৎ এমন কথা বলায় স্বামী অবাক হন। এরকম কথা বলার কারণ তিনি জানতে চান। দেবীকা জবাবে বলেন, তাঁর দাদুকে মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী পছন্দের খাবার খাওয়ানো হয়নি। তাই তিনি এমন কথা জিজ্ঞাসা করছেন। দেবীকার মনের অবস্থা বুঝতে পারেননি স্বামী। সোমবার সকালে তিনি বাইরে বেরিয়ে দেখতে পান চিলেকোঠায় বেরিয়ে থাকা লোহার রডে তিনটি ওড়না একসাথে গলায় পেঁচিয়ে দেবীকা ঝুলে রয়েছেন। উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার স্বামী নয়ন দাস বৈরাগ্য বলেন, স্ত্রীকে এদিন ঝুলন্ত অবস্থায় নামানোর সময় আমার মেয়ে জানায়, রবিবার দুপুরেও তিনি গলায় দড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ওঁর মনের কথা বুঝেনি। সেটা জানতে পারলে হয়তো জীবন বাঁচাতে পারতাম।



