Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কচুরিপানায় ঢাকা বিল, নামেনি পরিযায়ী পাখিরা, বড্ড মন খারাপ করিমপুরবাসীর

কচুরিপানায় ঢাকা বিল, নামেনি পরিযায়ী পাখিরা, বড্ড মন খারাপ করিমপুরবাসীর
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: ডিসেম্বর মাস শেষ হতে চলল কিন্তু এখনও পর্যন্ত পরিযায়ী পাখিদের দেখা নেই। কয়েক বছর আগেও শীতের শুরুতেই পরিযায়ী পাখিদের ভিড় জমত করিমপুরের আশেপাশের বিভিন্ন জলাশয়ে। এবার এখনও সেই অতিথিদের দেখতে না পেয়ে মন খারাপ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এলাকার মানুষরা জানান, বহু বছর আগে থেকে সাইবেরিয়া থেকে নভেম্বর মাসে পরিযায়ী পাখিরা এসে হাজির হতো করিমপুরের মালিয়ানতলা বিল বা মুরুটিয়ার দিঘলকান্দি বিলে। গত কয়েক বছর আগেও অনেক পাখি দেখা গিয়েছে। লেজার হুইসলিং বার্ড, ব্ল্যাক উইন্ড টিট, প্লোভার, গোল্ডেন প্লোভার, স্যান্ড পাইপারের মতো অনেক প্রজাতির পাখি কয়েক মাস কাটিয়ে ফিরে যেত নিজেদের দেশে। দিঘলকান্দির বাসিন্দা রতন বালা বলেন, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি অবধি স্থানীয় বিলে ওদের দেখা যেত। আশেপাশের লোকজন ভিড় করতেন বিলের ধারে। কেউ যাতে অতিথিদের বিরক্ত না করে তার জন্য পাড়ার ছেলেরা পাহারাও দিত। কিন্তু গত চার-পাঁচ বছর থেকে তাদের আসা কমে গিয়েছে। তিনি আরও জানান, দিনদিন বিলের জল শুকিয়ে যাচ্ছে। এই এলাকায় এখন আর আগের মতো বড় জলাশয় নেই। বিলের বেশিরভাগ অংশে চাষ হচ্ছে। সামান্য যে জল রয়েছে তাও কচুরিপানায় ঢেকে গিয়েছে। যার ফলে এবছর এই বিলে কোনও পাখিই আসেনি। একই কথা জানান বাজিতপুরের বাসিন্দা প্রশান্ত মণ্ডলও। তিনি বলেন, দু’ বছর আগেও প্রচুর পরিযায়ী আমাদের বিলে এসেছিল। এবারে তেমন কোনও পাখি আসেনি। করিমপুর নেচার কেয়ার সোসাইটির সদস্য তরুণ পোদ্দার ও শেখর মণ্ডল  বলেন, মূলত সাইবেরিয়া এবং বিভিন্ন শীতের দেশের পাখিরা অক্টোবর মাসের শেষের দিকে সেইসব জায়গা থেকে রওনা দেয়। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এখানকার বিভিন্ন বিলে থাকার পরে তারা ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের দেশে ফিরে যায়। পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে খঞ্জনী, কাদাখোঁচা পাখিরা এখানে থাকাকালীন ডিম পাড়ত। বাচ্চা একটু বড় হলে তাদের নিয়ে চলে যেত। বেশ কয়েক বছর আগে কিছু মানুষ এইসব পাখিদের ধরার চেষ্টা করত এবং বিরক্ত করত। সে ব্যাপারে স্থানীয় পুলিসকেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন তাদের থাকার মতো জল বা পরিবেশ নেই। তাই তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে মানুষকে যেমন আরও সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি জলাশয়ে জল থাকা দরকার। তাহলে হয়তো আবার ওই পরিযায়ী পাখিদের দেখা মিলবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ