Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কিছু বুথে এজেন্ট দিতে না পারলেও ভোট নিয়ে অভিযোগ নেই মনোজের

কিছু বুথে এজেন্ট দিতে না পারলেও ভোট নিয়ে অভিযোগ নেই মনোজের
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ব্রতীন দাস ও রবীন রায়: জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার: দলের রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্যের উল্টো সুর বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার গলায়। কলকাতায় বসে মাদারিহাটের ভোট নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতাদের একাংশ ‘প্রহসনের’ অভিযোগ তুললেও মনোজের বক্তব্য, দু-একটি জায়গায় অশান্তির চেষ্টা হলেও মানুষ এখানে শান্তিতেই ভোট দিয়েছে। বেশকিছু বুথে তাঁর দল পোলিং এজেন্ট দিতে না পারলেও মোটের উপর ভোট নিয়ে অভিযোগ নেই মাদারিহাটের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজের। তাঁর দাবি,মুজনাইয়ের একটি বুথে তৃণমূল অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে। আমাদের প্রার্থীর গাড়িতে হামলা হয়। কিন্তু সেখানেও মানুষ শান্তিতেই ভোট দিয়েছে। ওই বুথেও আমরাই জিতব। মনোজের এই বক্তব্যে মুখ পুড়েছে গেরুয়া শিবিরের রাজ্য নেতাদের। 
Advertisement
বুধবার ভোটের দিন মাদারিহাটে বিজেপির বুথ সংগঠনের ‘বেহাল’ ছবি সামনে আসে। বহু জায়গাতেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিজেপির ক্যাম্প অফিসে দেখা মেলেনি কর্মীর। অন্তত ১০-১২টি বুথে ছিল না পোলিং এজেন্ট। তারপরও অবশ্য জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এমপি। তবে লোকসভার তুলনায় মার্জিন যে কমবে, মানছেন তিনি। বন্ধ চা বাগানের বাসিন্দা, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটের দিন নিয়ে আসতে না পারা এর অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন মনোজ টিগ্গা। 
কয়েকটি জায়গায় যেমন ভোট খারাপ হয়েছে, তেমনই কিছু বুথে লোকসভার তুলনায় কিছুটা হলেও ভোট বাড়বে বলে দাবি সাংসদের। বলেন, মুজনাইয়ে হয়তো কিছুটা ভোট কমবে। তবে বান্দাপানি, লঙ্কাপাড়া, হান্টাপাড়ায় ভোট বাড়বে। প্রতিটি নির্বাচনে ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিই। উপ নির্বাচনেও কিছু অভিজ্ঞতা হল। 
বিজেপি ‘দিবাস্বপ্ন’ দেখছে বলে দাবি তৃণমূলের। দলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক বলেন, যা ভোট হয়েছে, কোনওমতেই বিজেপি জিতছে না। মাদারিহাটে জয়ের হাসি হাসবে তৃণমূল। কর্মীরা ভোটের দিন কাজে কোনও গাফিলতি করেননি। দলের তরফে মনিটরিং চালানো হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করেই জোরের সঙ্গে বলতে পারি, তৃণমূল জিতছে। লোকসভায় পিছিয়ে থাকলেও বিন্নাগুড়ি, সাঁকোয়াঝোরা-১, বীরপাড়া-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল এবার লিড নেবে বলে দাবি প্রকাশচিকের। 
মাদারিহাটের ভোটে আরএসপি কতটা দাঁত ফোটাতে পারল, উঠে আসছে সেই প্রশ্নও। তবে এনিয়ে জোর দিয়ে আদৌও কিছু বলতে পারছে না বামেদের এই শরিক। আরএসপির আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক সুব্রত রায় বলেন, এই ভোটেও আমরা ছাপ রাখতে পারব, এমনটা নিশ্চিত করতে বলতে পারছি না। চা বলয়ে ভোট পেতে যে সাংগঠনিক বাঁধন দরকার, সেটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভায় মাদারিহাটে আমরা ৭ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। এবার লোকসভায় কমে হয় ৪ হাজার। ওই ভোটটুকুই এবার ধরে রাখা সম্ভব হল কি না, সেটাই দেখার।
সম্পর্কিত সংবাদ