Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহারে উৎসব ঘিরে সাজো সাজো রব, এবার রাসমেলায় বাংলাদেশের কোনও ব্যবসায়ী স্টল দিচ্ছেন না

কোচবিহারে উৎসব ঘিরে সাজো সাজো রব, এবার রাসমেলায় বাংলাদেশের কোনও ব্যবসায়ী স্টল দিচ্ছেন না
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারের রাসমেলা ঘিরে সাজো সাজো রব পড়ে গিয়েছে। রাসমেলা ময়দানে দিনরাত কাজ চলছে। রবিবার রাতেই মাঠে চলে এসেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। তৈরি হচ্ছে স্টল, ক্যাম্প। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও এবার রাসমেলায় থাকছেন না বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরই রাসমেলায় তাদের শাড়ির বেশকিছু স্টল থাকে। কিন্তু এবার তাঁদের কাছ থেকে এখনও কোনও আবেদন কোচবিহার পুরসভায় পৌঁছয়নি। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। ফলে ধরেই নেওয়া যায় এবার রাসমেলায় বাংলাদেশি স্টল থেকে ঢাকাই জামদানি শাড়ি বা সিল্কের শাড়ি কেনার সাধ থেকে উৎসাহীরা বঞ্চিত হবেন। 
Advertisement
আবার এই রাসমেলাতেই বাংলাদেশের ফরিদপুর, নাটোর থেকে শুরু করে অনেক জায়গার গুড়, নোনা ইলিশ প্রভৃতি নিয়েও ব্যবসায়ীরা আসেন। তাঁরাও আসবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ  রয়েছে। এবার রাসমেলা ১৫ দিনের হবে। পুরসভার দাবি, রাসমেলা বসতে বসতেই কয়েক দিন চলে যায়। এরপর প্রথম ১০ দিন ব্যবসায়ীরা যা ব্যবসা করেন তাতে তাঁদের ‘নো প্রফিট নো লস’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর পরের পাঁচ দিন ব্যবসা করলে তবে সেটাই থাকে প্রকৃত লভ্যাংশ। সেই সুযোগ ব্যবসায়ীরা পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ প্রশাসন ১৫ দিনের মেলারই অনুমতি দিয়েছে। পুরসভা অবশ্য আবেদন করে সেই অনুমতি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, এখনও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করেননি। এখন আর সময়ও নেই। তাঁরা প্রতিবার দু’মাস আগে যোগাযোগ করতেন। এবার করেননি। আমরাও যোগাযোগ করিনি। রাসমেলার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। দিনরাত কাজ চলছে। প্রায় পাঁচ হাজার দোকান বসবে। আমরা মেলার সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কাছে পুনরায় আবেদন করেছি।
রাসমেলা মানেই কোচবিহারে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়। রাসমেলা ময়দানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় থাকে। মেলার মাঠেই থাকে ১২০০ স্টল। এছাড়া স্টেডিয়ামের মাঠে থাকে ৫০০ স্টল। এছাড়াও রাস্তায় থাকে শত শত দোকান। এক্সপো, নাগরদোলনা, সার্কাস সহ নানা সামগ্রীর দোকান বসে যায়। এরমধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হল বাংলাদেশের স্টলগুলি। ঢাকাই মসলিন থেকে শুরু করে নানা ধরনের শাড়ি কিনতে এখানে প্রতিবার জেলা তো বটেই, প্রতিবেশী জেলাগুলি সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসম বহু ক্রেতা ভিড় জমান। কিন্তু এবার সেই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এখনও যোগাযোগ করেননি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার সেদেশে উদ্ভুত অরাজক পরিস্থিতির কারণেই ব্যবসায়ীরা আসছেন না।
সম্পর্কিত সংবাদ