Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহারে পূর্ত ও সেচদপ্তরের ঠিকাদারদের বকেয়া ১২ কোটি

কোচবিহারে পূর্ত ও সেচদপ্তরের ঠিকাদারদের বকেয়া ১২ কোটি
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার জেলায় পূর্ত ও সেচদপ্তরের ঠিকাদারদের বকেয়া পাহাড় সমান। দীর্ঘদিন ধরে কাজের বিল পাচ্ছেন না তাঁরা। পাশাপাশি ২০১৭ সালের পুরনো রেটে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ২০২০-’২১ আর্থিক বছরে শেষ করা কাজের টাকাও আটকে থাকায় বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদাররা। তাঁরা দ্রুত সেই টাকা ছাড়ার দাবি তুলেছেন। 
Advertisement
প্রশাসনের এই ঢিলেমিতে তাঁরা বিপুল ক্ষতির মুখে বলে দাবি ঠিকাদাররা। সমগ্র বিষয় নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ জমেছে। কোচবিহার কন্ট্রাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্তদপ্তর ও সেচদপ্তরের বকেয়া বিলের পরিমাণ ১২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বকেয়া বিল দ্রুত মেটানো ও পুরনো সিডিউল অর্থাৎ পুরনো রেট বদলে নতুন রেট চালুর দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার কোচবিহার কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত দাবিতে জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পূর্তদপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন সংগঠনের সদস্যরা। 
কোচবিহার কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুহৃদ দে সরকার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পুরনো সিডিউলে এখানে কাজ করছি। পূর্ত ও সেচদপ্তরের ঠিকাদারদের যৌথভাবে বকেয়ার পরিমাণ ১২ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই এদিন ডিএম’কে স্মারকলিপি দিয়েছি। 
সংগঠনের সহ সভাপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন, ২০১৭ সালের পর আর সিডিউল রেটের কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। অথচ ওই সময় থেকে এখন বিটুমিন, ইট সহ সমস্ত ধরনের নির্মাণ সামগ্রীর দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বারবার এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে সরব হয়েছি। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে যে কাজগুলি করা হয়েছে তার বকেয়া টাকাও আমরা পাইনি। 
সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেচদপ্তরের বকেয়া টাকার পরিমাণ ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। অপর দিকে পূর্তদপ্তরের বকেয়া টাকার পরিমাণ ৫ কোটি ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৬১০ টাকা। এর মধ্যে ২০২০-’২১ অর্থবর্ষের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণে ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা, কোচবিহার সংশোধনাগারের কাজে ৪৫ লক্ষ ৯৪ হাজার ৬৯৬ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও ২০২১-’২২ ও ২০২৩-’২৪ সালে মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের জন্য মঞ্চ বানানো, অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণ প্রভৃতি খাতে প্রায় ৯২ লক্ষ টাকা বকেয়া আছে। অন্যদিকে, সেচদপ্তরের বকেয়ার পাহাড়ও নেহাত কম নয়। আট কোটির কাছাকাছি। ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে ৫৫ লাখ, ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ, ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে ৮৭ লাখ, ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষেই সাড়ে চার কোটির উপরে টাকা বকেয়া রয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ